কোনো এক বৈশাখে তোমাকে দেখেছিলাম
আবছা আবছা ধোঁয়া ধোঁয়া!
সেই থেকে
সারাটা বছর ধরে
তোমাকে ভেবে ভেবে,
আমার সাজানো গোছানো
সমস্ত ফার্নিচারে ধূলো জমে আছে।
যেন - কেউ আর
থাকে না এখানে!
পোকামাকড়ের বসতবাড়ি
হয়ে গেছে।
শখের হারমোনিয়ামের রিডগুলি
একেবারে সাদা হীরের মতো
ঝরঝর করে খসে গেল
অভিমানে
অভিমানে!
কত বছর হয়
আমার আঙুলের স্পর্শ পায়নি বলে।
বারান্দায় রাখা
টবের ফুল-পাতাগুলোও
অযত্নে মরে যাচ্ছে।
অথচ বৈশাখের আগমনে
এগুলো প্রেমে ভরপুর
থাকার কথা!
ঠিক যেমন নদী-
বৈশাখে নতুন করে যৌবন ফিরে পায়।
সারাটা বছর ধরে
তোমাকে ভেবে ভেবে
কেন জানি,
আজও তোমার মুখটি
মনে করতে পারছি না
আমি!
আচ্ছা বলতে পারো-
আর কতটা বৈশাখ পার হলে,
আর কত হাজার লক্ষ কোটি বার
কালবৈশাখী ঝড়ে,
হৃদয় ভেঙে টুকরো টুকরো হলে,
তোমাকে খুব কাছ থেকে দেখার
অপেক্ষায় থাকা,
এই চোখ দুটো আমার
শান্তি পাবে
নাটোরের বনলতা সেনের মতো।