চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
হাম বা মিসেলস এর উপসর্গ (সাসপেকটেড) নিয়ে এ পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৬ শিশু মারা গেছে। যাদের সকলের বয়স ৬ থেকে ৯মাস। এদের মধ্যে ৪ জন জেলা হাসপাতালে এবং ২ জন রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যায়। সকল মৃত্যুর ঘটনা মার্চ মাসের। মৃতদের একজনের নমুনা পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এসছে। অন্যদের নমুণা পরীক্ষা করা হয় নি। তবে গত দুদিনে হাসপাতালে ভর্তি রোগির সংখ্যা সামাণ্য কম। জেলা হাসপাতালে গত ৩১ মার্চ ৭৭, ১ এপ্রিল ৬৭ জনের পর বৃহস্পতিবার(২এপ্রিল) ৫৮ জন ভর্তি রয়েছে। এছাড়া গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ রোগি ভর্তি রয়েছে। এছাড়া এখন পর্যন্ত জেলার অন্য হাসপাতালে কোন রোগি ভর্তি হয় নি। অর্থাৎ এখন জেলায় ৬০ জন রোগি ভর্তি রয়েছে।
এ অবস্থায় আগামী ৫ এপ্রিল রোববার থেকে সারাদেশের ন্যয় চাঁপাইনবাবগঞ্জেও হামের বিশেষ টিকাদান শুরু হবে। জেলার ৩ লক্ষ ৬০ হাজার ৮১৪ জন শিশু এই টিকা পাবে। এই প্রথমবারের মত ৬ মাস বয়সী শিশুদের এমআর টিকা দেয়া হবে। এতদিন এটি ৯মাস বয়স থেকে দেয়া হত। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে এ ব্যাপারে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তবে কতদিন এই ভ্যাকসিন দেয়া হবে তা এখনও বলা হয় নি। জেলা সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা ও শিবগঞ্জ উপজেলায় আক্রান্তের হার সবথেকে বেশী।
সিভিল সার্জন ডা. এ,কেএম সাহাবুদ্দীন বলেন, আপাতত: নিজস্ব স্টোরের মজুদ থেকে টিকা দেয়া শুরু হবে। পরে সরবরাহ পেলে সেখান থেকে দেয়া হবে। ৬মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুরা এই টিকা পাবে। এখন পর্যন্ত জেলার ২৫ শিশুর ১০ জনের নমূণা পরীক্ষা করে পিজিটিভ পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি।
জেলা হাসপাতাল সূত্র জানায়,জেলা হাসপাতালে গত জানুয়ারীতে ২ ও ফ্রেবুয়ারীতে ৫ জন রোগি ভর্তির পর হঠাৎ করে মার্চ মাসে রোগি ভর্তি বাড়ে। গত জানুয়ারী থেকে এ পর্যন্ত ৩৩৭ জন রোগি এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে যার বেশিরভাগই শিশু। ৯ মাসের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে হামে আক্রান্ত হবার প্রবণতা সবচেয়ে বেশী। এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি শিশুর ১৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করে পজিটিভ পাওয়া গেছে।
জেলা হাসপাতালে ততবাবধায়ক ডা.মশিউর রহমান বলেন, গত দুদিনে ভর্তি একটু কমেছে। কিন্তু তাতে ভয়াবহতার চিত্র পাল্টায়নি। অনবরত রোগি আসছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ৫৪ শতাংশ জনবল না থাকা হাসপাতালে কর্মরতদের হিমসিম খেতে হচ্ছে। শিশু ওয়ার্ডে মাত্র ৩ জন চিকিৎসক। বর্হি:বিভাগেও রোগি আসছে।
জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী বলেন, হামের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় চিকিৎসা কর্তৃপক্ষ ও উর্ধতণ মহলে সর্বদা যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।