ভালো নেই-
শুধু একটা শব্দ নয়,
এটা এখন প্রতিদিনের শ্বাসের ভেতর আটকে থাকা দীর্ঘশ্বাস।
শহরটা আজকাল খুব চুপচাপ,
তবুও শব্দ থামে না-
হর্ন,অ্যাম্বুলেন্স,ব্রেক কষার আতঙ্ক,
আর কোথাও না কোথাও
একটা জীবনের থেমে যাওয়ার খবর।
রাত নামলে আকাশটা কালো হয় না,
হয় ক্লান্ত-
নিয়ন বাতির নিচে দাঁড়িয়ে থাকে
অজস্র অপ্রকাশিত কান্না।
মানুষ এখন খুব ব্যস্ত,
নিজের ভাঙা মনটা লুকাতে-
হাসি দিয়ে ঢেকে রাখে শূন্যতা,
ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখে-
'আলহামদুলিল্লাহ,ভালো আছি।'
কিন্তু ভেতরে?
ভেতরে একটা ঘর ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ে।
ভালো নেই সম্পর্কগুলোও-
অল্পতেই ভেঙে যায়,
কারণ এখন আর কেউ অপেক্ষা করতে শেখে না,
কেউ আর ক্ষমা করতে চায় না,
সবাই শুধু নিজেকে ঠিক রাখতে ব্যস্ত।
একটা সময় ছিল-
কথা কম হলেও অনুভূতি ছিল গভীর,
এখন কথা বেশি,
কিন্তু বিশ্বাস কমে গেছে।
রাস্তাগুলোও ভালো নেই-
প্রতিদিন কারও না কারও স্বপ্ন
রক্ত হয়ে পড়ে থাকে অ্যাসফল্টে,
কেউ থামে না,
শুধু একটু ধীর হয়,
তারপর আবার গতি বাড়ায়।
ভালো নেই দেশটা-
সংবাদে প্রতিদিনই নতুন কষ্ট,
নতুন বিভ্রান্তি,
নতুন প্রশ্ন-
কেন এতো অবহেলা?
কেন এতো অসমতা?
ভালো নেই মানুষ-
কারণ মানুষ এখন মানুষকে ভয় পায়,
বিশ্বাস করতে ভয় পায়,
ভালোবাসতে ভয় পায়।
তবুও সকাল হয়-
সূর্য উঠে,
কেউ নতুন করে বাঁচার চেষ্টা করে,
কেউ আবার পুরোনো কষ্ট নিয়েই দিন শুরু করে।
আমরা বেঁচে আছি-
এটাই এখন বড় কথা,
ভালো থাকার চেয়ে
বেঁচে থাকাটাই যেন বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গেছে।
তাই বলি-
ভালো নেই, তবুও থেমে নেই,
কারণ থেমে গেলে
এই শহর আমাদের নামটুকুও মনে রাখবে না।