মঙ্গলবার, জুলাই ২৮, ২০২৬

গৌ ত ম কু মা র দা স

  • ঈশ্বরের কাছে এক প্রশ্ন
  • ২০২৬-০৩-৩০ ১০:৫৭:৫১

ঈশ্বর…
একটি নিভৃত প্রশ্ন ছিল তোমার কাছে-
খুব ছোট নয়, আবার খুব সহজও না।

একদিকে এক যুবক কেঁদেছিল শব্দহীন হাহাকারে,
অন্য প্রান্তে এক যুবতী নিঃশব্দে ভেঙেছিল চুরমার;
দুজনেই ভালোবেসেছিল উজাড় করে, সত্যি করে—
তবুও দিনশেষে দাঁড়িয়ে রইল একা,
বিপরীত মেরুর দুই নিঃসঙ্গ দ্বীপে।

তুমি তো ওপর থেকে সবই দেখেছিলে, ঈশ্বর—
একটি বিশ্বাসের অকাল মৃত্যু, তার নিঃশব্দ ভাঙন,
অপেক্ষার দীর্ঘতম প্রহর, অসংখ্য বিনিদ্র রাত,
আর বুকের গভীরে জমে থাকা
হাজারো না-বলা, অব্যক্ত আর্তনাদ…

তাহলে কেন…?
কেন একবারও তাদের মুখোমুখি দাঁড় করালে না?
কেন কানে কানে বললে না—
“দেখো, তোমরা দুজনেই তো একই ব্যথার মানুষ,
একসাথে হাত ধরলে কষ্টটা হয়তো অর্ধেক হয়ে যেত…”

নাকি তোমার কাছে ভালোবাসা মানেই শুধু পাওয়া নয়—
হারানোর আগুনেই তাকে সত্যি করে চিনতে হয়?

নাকি তুমি চেয়েছিলে—
ওরা নিজেদের ভাঙনের ভেতরেই নিজেদের খুঁজে পাক,
নিজেদের ভাঙা আয়নার টুকরোগুলো
নিজেরাই জোড়া লাগাক,
তারপর একদিন—
ঠিক সময়ে, ঠিক মানুষের সান্নিধ্যে
আবার নতুন করে ভালোবাসতে শিখুক?

ঈশ্বর…
আজও তারা জানে না—
তারা কোনোদিনই “ব্যর্থ” ছিল না;
তারা ছিল কেবল ভুল গল্পের
দুটি নিখুঁত চরিত্র।

হয়তো কোনো এক জীবন-বিকেলের ভিড়ে
হঠাৎ চোখে চোখ পড়বে—
সেদিন থাকবে না অভিযোগ, থাকবে না অভিমান…
শুধু বুকের গভীর থেকে উঠে আসবে এক দীর্ঘশ্বাস—
“ইশ… একটু আগে যদি দেখা হতো!”

তবুও…
জীবন কারোর জন্য থেমে থাকে না,
থামে না ভালোবাসার অনন্ত স্রোতও।

কারণ—
যাকে সত্যিই হৃদয়ের গভীর থেকে ভালোবাসা যায়,
সে হারিয়েও একটুখানি আলো রেখে যায়—
শিখিয়ে যায়,
কীভাবে ভাঙা স্বপ্নের ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে
আবার ভালোবাসতে হয়… 


এ জাতীয় আরো খবর