সে কথা বলে ধীর কণ্ঠে,
শব্দগুলো পরিমিত,পালিশ করা-
যেন পুরনো কোনো দর্শনের বই থেকে তুলে আনা,
অথচ ভেতরে লুকানো থাকে
অগণিত ফাঁকা প্রতিধ্বনি।
তার পোশাকে সংস্কৃতি,
চোখে জ্ঞানের ভান,
ঠোঁটে নৈতিকতার অমৃত-
কিন্তু আচরণে ধরা পড়ে
স্বার্থের নিখুঁত অঙ্ক।
সে ইতিহাস জানে,
কবিতা উদ্ধৃত করে,
সুযোগ বুঝে ধর্মও টেনে আনে-
সবই যেন এক মঞ্চের সংলাপ,
যেখানে দর্শক আছে,
কিন্তু সত্য নেই।
তার চারপাশে কিছু মানুষ মুগ্ধ-
কারণ সে সুন্দরভাবে মিথ্যে বলে,
নরমভাবে প্রতারণা করে,
আর নিজের স্বার্থকে
সবার কল্যাণের নামে চালিয়ে দেয়।
সে কখনো উচ্চস্বরে চিৎকার করে না,
কারণ তার কৌশল নিঃশব্দ-
ধীরে ধীরে বিশ্বাস দখল করা,
ধীরে ধীরে মানুষকে ব্যবহার করা,
আর শেষে নিখুঁতভাবে সরে যাওয়া।
ক্লাসিকাল ভণ্ড-
আধুনিক সমাজের এক পরিশীলিত চরিত্র,
যে নিজেকে কখনো প্রকাশ করে না পুরোপুরি,
বরং আড়ালের আলোতেই বাঁচে।
তার ভেতরে নেই কোনো অপরাধবোধ,
কারণ সে নিজের কাছেই নির্দোষ-
নিজের যুক্তিতে সে সঠিক,
নিজের গল্পে সে নায়ক।
কিন্তু সময় একদিন আয়না ধরে-
সব পালিশ মুছে যায়,
সব মুখোশ খুলে পড়ে,
আর তখনই বোঝা যায়-
যে মানুষটা এতদিন আলোয় দাঁড়িয়েছিল,
সে আসলে ছায়ার বাসিন্দা।
তবুও সে হারায় না,
নতুন মঞ্চ খুঁজে নেয়,
নতুন দর্শক জোগাড় করে,
নতুন ভাষায় পুরনো ভণ্ডামি সাজায়।
কারণ ক্লাসিকাল ভণ্ড কখনো শেষ হয় না-
সে কেবল রূপ বদলায়,
সময় বদলায়, ভাষা বদলায়,
কিন্তু তার ভেতরের শূন্যতা
অবিকল থেকে যায়।
আর আমরা-
কখনো তাকে চিনেও চুপ থাকি,
কখনো না চিনেই অনুসরণ করি,
এই ভণ্ডামির বৃত্তে ঘুরতে থাকি
অদৃশ্য অভ্যাসে।
শেষমেশ প্রশ্নটা থেকেই যায়-
ভণ্ড কি শুধু সে-ই,
নাকি আমরাও একটু একটু করে
তার মতো হয়ে যাচ্ছি?