শনিবার, মার্চ ৭, ২০২৬

একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি জাহানারা আরজুর ইন্তেকাল

  • সকালের আলো প্রতিবেদক
  • ২০২৬-০৩-০২ ২৩:০৮:১৯
ফাইল ছবি

একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রথিতযশা কবি, সাহিত্যসম্পাদক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব জাহানারা আরজু আর নেই। সোমবার ২ মার্চ দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে তিনি ইন্তেকাল করেন। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন তিনি।
মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, এক মেয়ে, নাতি-নাতনীসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের মাতা। তাঁর স্বামী মরহুম এ কে এম নুরুল ইসলাম ছিলেন বাংলাদেশের সাবেক উপরাষ্ট্রপতি, আইনমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী। পাকিস্তান আমলে তিনি ঢাকা হাইকোর্টের বিচারপতি এবং স্বাধীনতার পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৩২ সালের ১৭ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন জাহানারা আরজু। অল্প বয়সেই সাহিত্যচর্চা শুরু করেন তিনি। ১৯৪৫ সালে দৈনিক আজাদ পত্রিকার মুকুলের মাহফিল বিভাগে তাঁর প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়। এরপর সওগাত, মোহাম্মদী, বেগম, মিল্লাত ও ইত্তেহাদসহ বিভিন্ন সাময়িকীতে নিয়মিত প্রকাশিত হতে থাকে তাঁর কবিতা ও প্রবন্ধ।
তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম মহিলা সাপ্তাহিক সুলতানা পত্রিকার প্রতিষ্ঠাকালীন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। নারীসম্পাদিত সাহিত্যধারায় এটি ছিল একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। সম্পাদনা ও সাহিত্যচর্চায় তাঁর অবদান বাংলা সাহিত্য অঙ্গনে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
জাহানারা আরজুর কবিতায় মানবতাবোধ, মানবিক চেতনা ও প্রকৃতিপ্রেমের গভীর প্রকাশ পাওয়া যায়। মাটি, মানুষ ও সমাজের বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতাকে তিনি সহজ ও আবেগঘন ভাষায় তুলে ধরেছেন। তাঁর লেখায় ব্যক্তিগত বেদনার পাশাপাশি ছিল আশাবাদ ও আলোকিত মানবিকতার শক্ত বার্তা।
বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৮৭ সালে একুশে পদক লাভ করেন। জীবদ্দশায় সাহিত্যসাধনার জন্য মোট ২৬টি পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ও অন্যান্য রচনা বাংলা সাহিত্যভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

কী-ওয়ার্ডস: জাহানারা আরজু, একুশে পদক, বাংলা সাহিত্য


এ জাতীয় আরো খবর