শুক্রবার, এপ্রিল ১৭, ২০২৬

এ স এ ম আ জা দ হো সে ন

  • বই ছাড়া ঘর-আত্মা ছাড়া দেহ
  • ২০২৬-০২-২৭ ১০:৫২:৫৩

বইহীন ঘরে ঢুকলে
প্রথমেই যে জিনিসটি টের পাওয়া যায়
তা নীরবতা নয়-
তা এক ধরনের ফাঁপা শব্দ,
দেয়ালের ভেতরে জমে থাকা শূন্যতার প্রতিধ্বনি।

সাজানো আসবাব থাকে,
ঝকঝকে মেঝে,
দামী পর্দা,
কাচের আলমারিতে শোপিস-
তবু কোথাও যেন আলো বসে না।
কারণ আলো শুধু বাতির নয়,
আলো আসে অক্ষরের ভেতর থেকে।

একটি বই মানে
একটি জানালা-
যেখানে বসে ভোর দেখা যায়,
অথবা শতবর্ষ আগের কোনো বিকেল।
একটি বই মানে
দূরের শহরের গন্ধ,
অচেনা মানুষের কান্না,
অপরিচিত ভাষার ভেতরেও
নিজের হৃদস্পন্দন খুঁজে পাওয়া।

যে ঘরে বই নেই,
সেখানে গল্প জন্মায় না।
শিশুর প্রশ্নগুলো দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে ফিরে আসে,
কৈশোরের কৌতূহল চুপচাপ মোবাইলের আলোয় নিভে যায়,
বৃদ্ধের স্মৃতিগুলো ধুলো হয়ে উড়ে যায় জানালার ফাঁক দিয়ে।

বই থাকলে
ঘরের বাতাস বদলে যায়।
রান্নাঘরের ভাতের গন্ধে মিশে যায় ইতিহাস,
ড্রয়িংরুমের সোফায় বসে থাকে দর্শন,
বারান্দায় দাঁড়িয়ে কবিতা দেখে বৃষ্টি।

বই মানে শুধু বিদ্যা নয়-
বই মানে আয়না।
যেখানে মানুষ নিজেকে দেখে
অহংকার ছাড়া,
মুখোশ ছাড়া।

একটি উপন্যাস শেখায়
অন্যের ব্যথা নিজের মতো অনুভব করতে;
একটি প্রবন্ধ শেখায়
প্রশ্ন করতে;
একটি কবিতা শেখায়
চুপ করে থাকতে।

বইহীন ঘর
দেহের মতো-
হাঁটে, বসে, খায়, ঘুমায়;
কিন্তু ভেতরে আত্মা নেই।
স্পন্দন নেই,
দূরত্ব পেরোনোর স্বপ্ন নেই।

যে ঘরে একটি তাক ভর্তি বই থাকে,
সেখানে সন্তান বড় হয় ভিন্নভাবে-
সে জানে পরাজয় মানে শেষ নয়,
সে জানে মতভেদ মানে শত্রুতা নয়,
সে জানে পৃথিবী তার একার নয়।

বই মানে
সময়ের সঙ্গে আলাপ।
মৃত লেখকের হাত ধরে
বর্তমানের ভিড়ে হাঁটা।
অদেখা ভবিষ্যতের দিকে
এক টুকরো বিশ্বাস ছুড়ে দেওয়া।

তাই বলি-
বই ছাড়া ঘর সত্যিই
আত্মা ছাড়া দেহ।
হয়তো বেঁচে থাকে,
কিন্তু জেগে থাকে না।

আর যে ঘরে বই আছে-
সেই ঘর নিঃশব্দেও কথা বলে,
অন্ধকারেও আলো ছড়ায়,
একটি ছোট্ট তাক থেকেও
একটি বিশাল পৃথিবী খুলে দেয়।


এ জাতীয় আরো খবর