চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের ফাটাপাড়া গ্রামের একটি বাড়িতে ককটেল তৈরীর সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণে ২ জন নিহত ও ৩ জন আহতের ঘটনায় মামলা হয়েছে। গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারী) ভোরে ওই ঘটনার পর দিবাগত গভীর রাতে সদর থানায় বিস্ফোরক উপাদানাবলী আইনের ৪,৫ ও ৬ ধারায় মামলা করেন সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বিল্লাল হোসেন। মামলায় ইউনিয়নের সাময়িক বরখাস্ত এবং হত্যাসহ একাধিক মামলার কারণে পলাতক চেয়ারম্যান শাহিদ রানা টিপুকে প্রধান সহ ১০ জনকে এজাহারনামীয় আসামী করা হয়েছে। অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে আরও ৮/১০ জনকে।
মামলার পর এলাকায় রাতভর যৌথ বাহিনীর অভিযানে এজাহারনামীয় ২ আসামী গ্রেপ্তার হয়েছে। গ্রেপ্তাররা হলেন ফাটাপাড়া গ্রামের চাঁন মোহম্মদেও ছেলে ইউসুফ(৪৫) ও একই ইউনিয়নের গোঠাপাড়া গ্রামের ফজর আলীর ছেলে মো: শাকিল(৩৭)। তাঁদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা(আইও) এবং সদও থানার পরিদর্শক(তদন্ত) সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ বলেন, এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ঘটনায় আহত ৩ জন পুলিশ পাহারায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ফলে মামলায় গ্রেপ্তার মোট ৫ জন। ঘটনার তদন্ত এবং অন্য আসামীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। মামলার এজাহারে আসামীদের বর্তমান রাজনৈতিক পারিচয় উল্লেখ নাই জানিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, সকল পরিচয় তদন্তে জানা যাবে।
এদিকে চারিদিক প্রকম্পিত করা ওই বিস্ফোরণে হতাহতরা সকলেই ককটেল তৈরীতে জড়িত ছিল বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
অপরদিকে ঘটনার পর এলাকায় চরম আতংক বিরাজ করছে। জনশূণ্য হয়ে পড়েছে সড়ক ও বাজার। মানুষ বাড়ি থেকে বের হতেও ভয় করছে। রোববার(১৫ ফেব্রুয়ূারী) দুপুরে চরবাগডাঙ্গা ইউপি সচিব তানজিমুল হক বলেন, বাড়িতে মানুষ থাকলেও বাইওে বের হচ্ছেন না। পদ্মা তীরের লোকালয় নিস্তব্ধ। চারদিকে সুনসান নীরবতা। এমনকি শিশুরাও বাইরে খেলতেও বের হচ্ছে না।
এদিকে ঘঢ়টনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির পরাজিত প্রার্থী,সাবেক এমপি হারুনুর রশীদ মূলত: ইউনিয়নের বর্তমান ও সাবেক এক চেয়ারম্যান (জেলা বিএনপি নেতা) সহ কয়েকজন স্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং মূলত: জামায়াত ও আওয়ামী লীগের একাংশ ঘটনার জন্য দায়ী করেন। তিনি বলেন,বিএনপি নেতাকর্মীদের উপর হামলার জন্য প্রস্তুতি নেবার সময় ঘটনা ঘটে।
অপরদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জেলা জামায়াত নেতৃবৃন্দ ঘটনার ব্যাপারে তদন্ত না করেই জামায়াতকে প্রকাশ্যে দায়ী করায় বিএনপির সাবেক এমপির বক্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে তা অসত্য দাবি করে প্রত্যাখান করেন। জামায়াতের সাবেক সাবেক এমপি লতিফুর রহমান বলেন,জামায়াত সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পছন্দ করে না।