ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত বিশাল জনসভায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের স্বাধীনতা ও কথা বলার অধিকার হরণে নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। এসব অপশক্তিকে জনগণ ইতোমধ্যে ‘গুপ্ত’ নামে চিহ্নিত করেছে। তারা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রূপ বদলায়, কিন্তু উদ্দেশ্য একই থাকে-জনগণের অধিকার দমন।
বুধবার দুপুরে আয়োজিত এই জনসভায় সকাল থেকেই ফরিদপুরসহ আশপাশের জেলা ও উপজেলার নেতাকর্মীদের ঢল নামে। মাঠ ও আশপাশের সড়কগুলো জনসমুদ্রে পরিণত হয়। দীর্ঘ সময় পর এমন বিশাল সমাবেশে এলাকায় ব্যাপক রাজনৈতিক উত্তাপ ও উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।
তারেক রহমান অভিযোগ করেন, বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের কাছ থেকে বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করা হচ্ছে। বিশেষ করে মা-বোনদের ব্যক্তিগত তথ্য নেওয়ার অভিযোগকে অনৈতিক ও ভয়ংকর প্রবণতা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষায়, যারা নিজেরাই অনৈতিক কাজ দিয়ে শুরু করে, তারা কীভাবে জনগণকে সৎ ও ন্যায়ভিত্তিক শাসনের আশ্বাস দেবে-সে প্রশ্ন আজ সাধারণ মানুষের।
ফরিদপুরবাসীর উদ্দেশে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ধানের শীষে রায় পেলে এই অঞ্চলের মানুষের যৌক্তিক দাবিগুলো বাস্তবায়নে বিএনপি কাজ শুরু করবে। তিনি ঘোষণা দেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করলে এবং প্রশাসনিকভাবে জনগণের উপকার নিশ্চিত হলে ফরিদপুরকে পূর্ণাঙ্গ বিভাগে উন্নীত করা হবে।
নিজের বক্তব্যে তারেক রহমান বিএনপির ভবিষ্যৎ শাসন পরিকল্পনার একটি রূপরেখাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ফরিদপুর ও আশপাশের অঞ্চলের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ নদীভাঙন। পদ্মা ও সংশ্লিষ্ট নদীগুলোর ভাঙন রোধে কার্যকর ও টেকসই প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।
কৃষিখাতে সংস্কারের অংশ হিসেবে তিনি কৃষকদের জন্য সহজ শর্তে বীজ, সার ও কীটনাশক নিশ্চিত করতে ‘কৃষক কার্ড’ চালুর ঘোষণা দেন। পাশাপাশি নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর প্রতিশ্রুতি দেন।
স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে তিনি জানান, তৃণমূল পর্যায়ে সেবা পৌঁছে দিতে গ্রাম ও শহরের প্রতিটি ঘরে হেলথকেয়ার কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে পানির সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ ও ব্রিজ স্থাপনের আশ্বাস দেন তিনি।
তারেক রহমান ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করেছিলেন, আর ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতা সেই স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছে। একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সেই দলের এক নেতা দেশের মা-বোনদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। তাদের রাজনৈতিক ইতিহাস কলঙ্কজনক, যা অতীতেও প্রমাণিত হয়েছে।
দক্ষিণাঞ্চলের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে এই অঞ্চলই হতে পারে দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। তিনি তরুণ সমাজকে অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার এবং আগামীর বাংলাদেশ নির্মাণে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
জনসভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, ফরিদপুরের এই অভূতপূর্ব জনসমাগম প্রমাণ করে যে সাধারণ মানুষ পরিবর্তন চায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক অবস্থানের মধ্য দিয়ে সমাবেশটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। ফরিদপুর বিভাগীয় পাঁচটি জেলার নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে সমাবেশটি ঐতিহাসিক রূপ নেয়।
কী-ওয়ার্ডস:তারেক রহমান,ফরিদপুর জনসভা,বিএনপি নির্বাচন