আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর যে দলই রাষ্ট্রক্ষমতায় আসুক না কেন, বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে—এমন প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, সরকার পরিবর্তন হলেও দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক ও যৌথ উন্নয়ন কার্যক্রম থেমে থাকা উচিত নয়।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় চীন–বাংলাদেশ পার্টনারশিপ ফোরামের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে এ কথা বলেন ড. ইউনূস। বৈঠকে স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও ডিজিটাল খাতে সহযোগিতা জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি।
ড. ইউনূস প্রতিনিধিদলকে জানান, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব শেষ হবে, তবে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে চলমান উন্নয়ন সহযোগিতা ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নিতে হবে। ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের মাধ্যমে চীনের সঙ্গে সম্পর্কের সূচনার কথাও তিনি স্মরণ করেন এবং বলেন, এই মডেল চীনের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মানুষের জীবনমান পরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছে।
চীন সফরকালে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তার নীতিগত কাজ চীনের নীতিনির্ধারণেও প্রভাব ফেলেছে—এটি তার জন্য গর্বের বিষয়। একই সঙ্গে তিনি চীন সরকারের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।
বৈঠকে অংশ নেওয়া চীনা শিক্ষাবিদ, বিনিয়োগকারী ও বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে স্বাস্থ্য, বায়োমেডিক্যাল, অবকাঠামো ও ডিজিটাল প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ ও গবেষণার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তারা বাংলাদেশের তরুণদের মেধা ও সম্ভাবনার প্রশংসা করেন।
ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার স্বাস্থ্যসেবা। ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে চিকিৎসা ব্যবস্থাকে সহজ, স্বচ্ছ ও সবার জন্য গ্রহণযোগ্য করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। পাশাপাশি সামাজিক ব্যবসাভিত্তিক ওষুধ ও ভ্যাকসিন উৎপাদনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
উত্তরাঞ্চলে একটি আন্তর্জাতিক মানের ‘হেলথ সিটি’ গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সেখানে হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ, গবেষণা কেন্দ্র ও ভ্যাকসিন উৎপাদন ইউনিট থাকবে, যা বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর মানুষও উপকৃত হবে।
কীওয়ার্ডস:চীন–বাংলাদেশ সম্পর্ক,ড. মুহাম্মদ ইউনূস,দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা