শনিবার, মে ৩০, ২০২৬

ভেনেজুয়েলার তেল যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদ, জাতীয়করণকে ‘চুরি’ বললেন ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৫-১২-১৮ ১০:২৮:৩২
ফাইল ছবি

ভেনেজুয়েলার তেল আসলে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদ-এমন বিতর্কিত দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার। তিনি দেশটির তেল শিল্প জাতীয়করণকে আমেরিকান সম্পদের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ‘চুরি’ বলে অভিহিত করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) আলজাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মিলার লেখেন, ভেনেজুয়েলার তেল শিল্প আমেরিকানদের শ্রম, উদ্ভাবন ও বিনিয়োগে গড়ে উঠেছিল। সেটি জোরপূর্বক দখল করে নেওয়া হয়েছে এবং এই ‘লুট করা সম্পদ’ সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন, যুক্তরাষ্ট্রে সহিংসতা ও মাদক প্রবাহে ব্যবহার করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তবে আন্তর্জাতিক আইনের ‘প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর স্থায়ী সার্বভৌমত্ব’ নীতিমালা অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার তেল সম্পূর্ণভাবে দেশটির নিজস্ব। যদিও প্রাথমিক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন কোম্পানি সেখানে তেল অনুসন্ধান ও উৎপাদনে যুক্ত ছিল। ভেনেজুয়েলা ১৯৭৬ সালে তেল শিল্প জাতীয়করণ করে রাষ্ট্রীয় কোম্পানি পিডিভিএসএর আওতায় আনে। পরে ২০০৭ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হুগো শ্যাভেজ অবশিষ্ট বিদেশি প্রকল্পও জাতীয়করণ করলে কনোকোফিলিপস ও এক্সনমোবিলের মতো মার্কিন তেল কোম্পানিকে দেশ ছাড়তে হয়।
এরপর মার্কিন কোম্পানিগুলো আইনি লড়াই শুরু করে। ২০১৪ সালে বিশ্বব্যাংকের এক সালিশি ট্রাইব্যুনাল এক্সনমোবিলকে ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে ভেনেজুয়েলাকে নির্দেশ দেয়। তবে এ সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি।
২০১৯ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র পিডিভিএসএর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরে ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে ‘ম্যাক্সিমাম প্রেশার’ নীতি আরও জোরদার করেছে। মঙ্গলবার ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার তেলবাহী ট্যাংকারে অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেন এবং সেগুলোকে নিষেধাজ্ঞাভুক্ত বলে আখ্যা দেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ‘চুরি করা’ সব তেল ও সম্পদ ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত ভেনেজুয়েলাকে নৌ অবরোধে রাখা হবে।
গত সপ্তাহে ভেনেজুয়েলার উপকূলে একটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করে মার্কিন সামরিক বাহিনী, যাকে কারাকাস আন্তর্জাতিক জলদস্যুতা বলে নিন্দা জানিয়েছে। এ ছাড়া সেপ্টেম্বর থেকে ক্যারিবীয় সাগরে ভেনেজুয়েলার কাছাকাছি এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের নৌ হামলা নিয়েও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন বহু বিশেষজ্ঞ।
এদিকে ভ্যানিটি ফেয়ার ম্যাগাজিন জানিয়েছে, হোয়াইট হাউস চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলস বলেছেন-এই নৌ হামলাগুলোর মূল লক্ষ্য ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরানো। যদিও বিশ্লেষকদের মতে, মাদুরোর নেতৃত্বে কোনো সংগঠিত মাদক কার্টেল বা যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক মাদক প্রবাহের নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই।

কী-ওয়ার্ডস:ভেনেজুয়েলা তেল,ট্রাম্প প্রশাসন,যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা


এ জাতীয় আরো খবর