মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জে অস্থির পেঁয়াজের বাজার,দামের উর্ধগতি প্রবণতা অব্যহত

  • জাকির হোসেন পিংকু,
  • ২০২৫-১১-১৩ ০৯:৩৪:২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জে পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা কমার কোনো লক্ষণই নেই। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে  বিভিন্ন মানের পেঁয়াজের দাম কেজি প্রতি অন্তত: ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার পরও বাজারে স্থিতিশীল হয় নি। বুধবার(১২ নভেম্বর) জেলার প্রধান পাইকারী ও খুচারা বাজার জেলা শহরের  পুরাতন বাজারে  ভাল (বেশীদিন সংরক্ষণযোগ্য) দেশি পেঁয়াজ (ছাঁচি) বিক্রি হয়েছে  খুচরা  কেজি ১১০ টাকা পর্যন্ত।  ৯৫ টাকার নীচে  বাজারে কোন পেঁয়াজ নেই। সাধারণ ক্রেতারা এই দামে কিনতে হিমসিম খাচ্ছেন। অথচ মাত্র ১০ দিন পূর্বেও ভাল পেঁয়াজ  ৭০ থেকে ৮০ টাকা দামে কেনা গেছে। মাত্র ৩ সপ্তাহ পূর্বেও ভাল পেঁয়াজ ৬০-৭০ টাকা দরে কেনা গেছে। জেলার বাজারগুলো থেকে  পাওয়া তথ্যে জানা গেছেজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ও মুদি দোকানে পেঁয়াজের দামের ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে। বিক্রেতারা বলছেন,পাইকারি বাজারে দাম না কমলে খুচরা পর্যায়ে স্বস্তি ফিরবে না।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ী সেলিম রেজা বলেন, বর্তমানে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। বাজারে দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজের সরবরাহ যথেষ্ট রয়েছে। কিন্তু পাইকারি পর্যায়ে দাম বেড়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
অন্যদিকে খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান,  দেশের অন্যতম পেঁয়াজ আমদানীর  পথ চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকায় স্থানীয় বাজারে সরবরাহ কিছুটা কমে গেছে। এর প্রভাব পড়ছে পাইকারি বাজারে, যা সরাসরি খুচরা বিক্রেতা ও ক্রেতাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। শিবগঞ্জের একজন খুচরা বিক্রেতা শামীম উদ্দিন বলেন, পাইকারি বাজার থেকে পেঁয়াজ কেজি প্রতি ৯৫-৯৮ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এতে আমরা ১০০-১১০ টাকার নিচে বিক্রি করতে পারছি না। ক্রেতারাও হতাশ, বিক্রিও কমে গেছে।
অন্যদিকে ক্রেতারা বলছেন, পেঁয়াজ দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম অপরিহার্য ভোগ্যপণ্য। হঠাৎ দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষ বিপাকে পড়েছে।  বাজারের বাজেট মেলানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, দ্রæত যদি পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়, তাহলে সরবরাহ বাড়বে এবং বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে। অন্যথায় দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
জেলার অন্যতম পেঁয়াজ আমদানীকজারক মেসার্স সাজ্জাদ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মাসুদ রানা বলেন, দেশে সর্বোচ্চ ১২০ টাকা কেজি পর্যন্ত পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। যে যাই বলুক, জানুয়ারীর আগে দেশে মুড়িকাটা পেঁয়াজ সরবরাহ যথেষ্ট হবে না। দ্রæত আমদানী শুরু না হলে দাম আরও বাড়তে পারে। তবে আমাদানীর ব্যাপারে এখনও কোন সরকারি সংকেত পাওয়া যায় নি বলেও জানান তিনি।
সোনামসজিদ বন্দর উদ্ভিদ সংগনিররোধ কে›ন্দ্র  উপ-পরিচালক(ডিডি) সমীর চন্দ্র ঘোষ বলেন, পেঁয়াজের দাম উর্ধমূখী। গত আগষ্ট মাসে একদফা আমদানীর অনুমতি দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা হয়। গত ৯ সেপ্টেম্বরর বন্দরে শেষ ২৫ টন পেঁয়াজ আসে। এখন আবার আমদানীর কথা বার্তা শোনা গেলেও কোন সরকারি নির্দেশনা আসে নি। কোন আইপি বা ইমপোর্ট পারমিট ইস্যূ হয় নি। এর আগে গত ৩১ মার্চ বন্দরে পেঁয়াজ আমদানীর পর আমদানী বন্ধ হয়ে যায়।
জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা শাহনাজ পারভিন জানিয়েছেন, বাজার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পাইকারি ও খুচরা বাজারে মনিটরিং জোরদার করা হবে। এতে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো সম্ভব হবে।


এ জাতীয় আরো খবর