কলম তো তরবারী নয়
তবু দেখি কলমের ডগা থেকে ঝরে পড়ে শানিত শব্দ,
কাটা পড়ে সমাজ-রাষ্ট্রের দুরাচার।
কে বলে বীণা শুধু মোহনীয় সুর তোলে,
আজকাল কলমের মুখেও সুর জমে থাকে,
আর আলতো করে ছুঁয়ে দিলেই কেমন ঝংকার তোলে।
সেই সুরে পাই ক্ষুধার কাতরতা, নিপীড়িতের দীর্ঘশ্বাস।
আমি বীণা বাজাই না, কাব্যও করি না
আমি শুধু খুঁচিয়ে বের করি চাপা পড়ে থাকা কিছু সত্য।
আমার অক্ষরে ঝরে পড়ে সন্তানহারা মায়ের কান্না,
কখনও একটা ওড়না রক্তাক্ত হয়ে ফিরে আসে খেরোখাতায়।
অবশ্য তোমরা চাও
আমি চুপিসারে শুধু ফুল-পাখি-নদীর কবিতা লিখি,
আর অগোচরে পিষে মারো মানুষ,
চুরি করো রোদের আলো, বৃষ্টির গন্ধ, কোকিলের গান।
আমি কবি নই, আমার কলম শুধু কলম নয় --
আমার কথা মিছিলের ঝাঁজালো স্লোগান
আর দেওয়ালে দেওয়ালে আঁকা নতুন করে বাঁচার স্বপ্নছবি,
এটা বীণার মতো বাজে না,
এর শব্দ রাগে ও ক্ষোভে একদিন সার্থক বিপ্লব হবে।
তখন কেমন করে থামাবে এ কলম, এ কলম জনতার কণ্ঠস্বর,
চাপা পড়ে গেলে আবারো গর্জে উঠবে নতুন উদ্দীপনায়।