খুলনা, ২৮ অক্টোবর: ‘ধানের নতুন জাত: কৃষকের হাত ধরে উত্তরণের গল্প’ শিরোনামে খুলনার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামার বাড়ি মিলনায়তনে এক গুরুত্বপূর্ণ ‘কৃষকের ধান জাত উদ্ভাবনে অভিজ্ঞতা বিনিময়ে সভা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা লোকজ-এর আয়োজনে এবং মিজরিও-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এই সভায় কৃষকরা তাদের উদ্ভাবিত ধান জাতের কৌলিক সারি নিয়ে মূল্যবান অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরেন। কৃষকদের নিজস্ব উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে উপযোগী নতুন জাতের ধানের উদ্ভাবনের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব তুলে ধরার লক্ষ্যে এই সভার আয়োজন করা হয়।
লোকজ-এর সহসভাপতি কৃষিবিদ এম এম ফেরদৌস-এর সভাপতিত্ত্ব ও সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন লোকজ-এর নির্বাহী পরিচালক দেবপ্রসাদ সরকার। সভায় বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের রাজশাহী অঞ্চলের আর্ন্তজাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কৃষি গবেষক ও ধান বিজ্ঞানী কৃষক নূর মোহাম্মদ তাঁর ধানের জাত উদ্ভানের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেছেন। অনুষ্ঠানে খুলনা অঞ্চলের ১০ জন ব্রীডার কৃষক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে আলোচনায় অংশ নেন। এসময় কৃষক নূর মোহাম্মদ তাঁর উদ্ভাবিত ধানের জাতগুলোর গুণাগুণ, সম্ভাবনা, ধান উদ্ভাবনের বিজ্ঞানসম্মত বিভিন্ন ধাপ ও প্রক্রিয়া এবং স্বীকৃতির প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করেন। একই সাথে ধান জাত উদ্ভাবনে ইমাসকুলেশান ও পলিনেশনে কৃষকদের ভূমিকা এবং কৃষি গবেষণায় কৃষকের মাঠের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
দিনের গুরুত্বপূর্ণ অংশে ছিল উদ্ভাবক কৃষক, কৃষক সংগঠনের প্রতিনিধি, সাংবাদিক ও অতিথিদের মধ্যে উন্মুক্ত আলোচনা। এসময় অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন ব্রি সাতক্ষীরা প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো: সাজ্জাদুর রহমান, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় মাটি-পানি ও পরিবেশ ডিসিপ্লিন-এর চেয়ারম্যান প্রফেসর মো: সানাউল ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক মো: সাদিকুল আমিন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনার উপপরিচালাক মো: নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট-বারি’র সরেজমিন গবেষণা বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো: কামরুল ইসলাম, জেলা বীজ প্রত্যায়ণ অফিসার (অ.দা.) ড. রুবায়েত আরা, এসআরডিআই প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা অমরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস, আঞ্চলিক বেতার কৃষি অফিসার কৃষিবিদ শারমীনা শামীম, অতিরিক্ত উপপরিচালক উদ্ভিদ সংরক্ষণ মো: তৌহিদুল ভূইয়া, ডিএই জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার মাহদেব চন্দ্র সানা, খানবাহাদুর আহসানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার এস এম আতিয়ার রহমান, বটিয়াঘাটা উপজেলা কৃষি অফিসার আবু বক্কর সিদ্দিক, পরিবেশ সুরক্ষা মঞ্চ-এর সভাপতি অ্যাড. কুদরৎ ই খুদা, বািিসক রাজশাহীর আঞ্চলিক সমন্বয়কারী শহিদুল ইসলাম, বেলা’র বিভাগীয় সমন্বয়কার মাহফুজুর রহমান মুকুল, ডেইলী স্টার খুলনা প্রতিনিধি দিপংকর রায়, দৈনিক আমারদেশ খুলনা ব্যুরো প্রধান এহতাশামুল হক শাওন, কালেরকণ্ঠের স্টাফ রিপোটার কৈশিক দে বাপী, দৈনিক জন্মভূমি-এর স্টাফ রিপোর্টার শেখ আব্দুল হামিদ, শিক্ষক সাজেদুল ইসলাম, ব্রিডার কৃষক আরণি সরকার, বাসুদেব ম-ল ও অপূর্ব ম-ল অপু। এতে অংশপ্রহণকারীরা কৃষকদের উদ্ভাবিত ধানের জাতের সমস্যা, সম্ভাবনা এবং সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে কীভাবে এই উদ্যোগগুলোকে আরো শক্তিশালী করা যায়, সে বিষয়ে খোলামেলা মতবিনিময় করেন। কৃষি বিভাগের গবেষক ও কর্মকর্তাবৃদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকরাও এই আলোচনায় অংশ নিয়ে কৃষকদের উদ্ভাবনী প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন এবং তাদের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সবশেষে, সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে কৃষিবিদ এম এম ফেরদৌস এই ধরনের সভা আয়োজনের গুরুত্ব তুলে ধরে কৃষকদের অব্যাহত গবেষণার জন্য উৎসাহিত করেন এবং সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।