কে যেন আকাশের বুকে পেতেছে
পেঁজা তুলোর সিঁড়ি।
এপারওপার।
সিঁড়ির ধাপে ধাপে বসে আছে
মৃগশিরা, অরুন্ধতী, স্বাতী, সুরঞ্জনা --
সুরঞ্জনা, তুমি কবে নক্ষত্র হলে!
তোমায় কতোবার বলেছি
পাগলকে মন দিতে নেই।
যদিও জানি না কোনো ডাক পিওন
কাঁধের ব্যাগে নিয়ে এসেছিলো কিনা
তোমার প্রস্তাব।
আমি যখনই তোমায় রক্তমাংসে চেয়েছি
তখনই তুমি কখনও হয়ে গেছো নদী,
হয়ে গেছো সুনীল আকাশ অথবা পারিজাত কুঁড়ি।
বুঝিয়েছো মানবী আর মানসীর দুস্তরতা।
ওদিকে
ঝড়ের হাসির শব্দে বুঝিয়েছো তোমার প্রেম।
আকাশের ঘনকালো মেঘের বুক থেকে
বিদ্যুৎচমক ছিনিয়ে এনেছি তোমার খোঁপায়
বেলফুলের মালা করে পড়াবো বলে।
ছুটে যাওয়া দুরন্ত ঘোড়ার গ্রীবার থেকে
অহংকার টেনে বসিয়েছি তোমার ভ্রুভঙ্গিমায়।
পৌষালী সোনালি শষ্যের মাঝে আবিষ্কার করেছি
তোমার নিটোল নিতম্ব।
সবকিছু অস্বীকার করে
কেন তুমি নক্ষত্র হলে সুরঞ্জনা!
প্রেম আর প্রেমিকা
এই দুয়ের অর্থ কতো একাঙ্গী অথচ কতো
মরুদূরত্বে থাকা দুটো শব্দ।
প্রেম যেন ঘোড়ার খুরের শব্দের মতো
শুধু কানে শোনা যায়, চোখে দেখা যায় না।
আর প্রেমিকা হলে তুমি,
মরুরাতে জ্বলজ্বল করা নক্ষত্রের মতো
শুধু চোখে দেখা যায়, ছোঁওয়া যায় না।
আকাশভরা ওই পেঁজা তুলোর সিঁড়ি থেকে
নেমে এসো সুরঞ্জনা।
আমি তোমায় কাঁসার বাটিতে আমানি ভরে দেবো।
শীতলপাটি বিছিয়ে দেবো মাটির দাওয়ায়।
আর দু'চোখ ভরে মাখিয়ে দেবো প্রেমের কাজল।
মনের মাধুরী মিশিয়ে উপহার দেবো
ভালোবাসার মহাকাব্য।
আর শিউলি ঝরার জীবনমুখী গান।
ভালোবেসে যদি পাগল না হই
পাগল হয়েই না হয় ভালোবাসবো তোমায়।
" চরণে চরণে চরণচিহ্ন রেখে যাও -- ওহে সুন্দর "