সোমবার, আগস্ট ১৭, ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা’র বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ ২৭০০ পরিবার পেয়েছে সরকারি সাহায্য,এখনও বহু মানুষের সাহায্

  • জাকির হোসেন পিংকু,
  • ২০২৫-০৮-২৫ ২২:০৩:২৫

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের  সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলায় পদ্মা’র  বন্যায় পানিবন্দী ও ক্ষতিগ্রস্থ প্রায় ২ হাজার ৭০০ পরিবার  এখন পর্যন্ত সরকারি ত্রাণ পেয়েছে। এছাড়া বেসরকারি উদ্যোগে এই দুই উপজেলার কয়েক হাজার পরিবার ত্রাণ পেয়েছে। শিবগঞ্জে বন্যা কবলিত এলাকায় দু’দিন কাজ করেছে সরকারি মেডিক্যাল ও পশু চিকিৎসা দল। বেসরকারি উদ্যোগেও শিবগঞ্জে মেডিক্যাল টিম কাজ করেছে। তবে এখনও বহু মানুষের  খাদ্য,চিকিৎসা,বাসস্থান,কৃষি পূণর্বাসন,কর্মসংস্থান,পশুপালন সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাহায্য দরকার। সোমবার (২৫আগষ্ট) শিবগঞ্জের  পাঁকা ইউনিয়নের চরপাঁকা এলাকায় ৭০০ পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ করে উপজেলা প্রশাসন।  বিন্যামূল্যে ঔষুধ প্রদান ও চিকিৎসা সেবা প্রদান করে সরকারি মেডিক্যাল ও ভেটেরিনারী টিম। সমাাজসেবা বিভাগের বিভিন্ন ভাতাভোগীদের হাতে তুলে দেয়া হয় নগদ অর্থ।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, মৌসুমে দ্বিতীয়বারের মত গত ৪আগষ্ট থেকে পদ্মার পানি বাড়তে শুরু করে। গত ১৩ আগষ্ট পানি বিপদসীমার মাত্র ৩১ সেন্টিমিটার নীচে ২১.৭৪ মিটার সমতলে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত করে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হবার পর গত ১৪ আগষ্ট থেকে সামান্য হারে কমতে শুরু করে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান,বন্যায় সদরের নারায়নপুর,আলতুলি,ইসলামপুর,দেবীনগর,শাজাহানপুর, ইসলামপুর,চরবাগডাঙ্গা এবং শিবগঞ্জের  ঘোড়াপাখিয়া,উজিরপুর,পাঁকা,দূর্লভপুর ও মনাকষা  এই ১২টি পদ্মাতীরবর্তী ইউনিয়নের নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পানিবন্দী হন হাজার হাজার পরিবার। গবাদিপশু নিয়ে দূর্ভোগে পড়েন অনেকে। সংকট দেখা দেয় মানুষ ও  পশু খাদ্যের। মানুষ ও পশুর রোগব্যাধী ছড়িয়ে পড়ে।  তলিয়ে যায় হাজার হাজার বিঘা ফসলি জমি ও বাগান। গ্রামীন সড়ক তলিয়ে যেয়ে যোগাযোগ ব্যহত হয়। বন্ধ হয়ে যায় অন্তত: ৬০টি বিভিন্ন ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান। চরাঞ্চলের অনেক এলাকায় যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হয় নৌকা। পানি কমতে শুরু করার পরও প্রবেশ করা পানি নামতে সময় লাগে। সেইসাথে দূর্গত এলাকাগুলোতে দূর্ভোগ বাড়ায়  অব্যহত বৃষ্টি। বন্যার দূর্ভোগ এখনও  পুরোপুরি লাঘব হয় নি। পানি নেমে গেলেও রেখে গেছে ক্ষত। কর্মহীন হয়ে পড়েছেন অনেক মানুষ।  
প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন,দুই উপজেলায় অন্তত:সাড়ে ৯ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়। তবে  অনেক ইউনিয়নের নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ফসল ডুবে গেলেও মানুষ পানিবন্দিী হন নি।  অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চারপাশে পানি ্উঠলেও পাঠদান বন্ধ হয় নি। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়,দুই উপজেলায় পদ্মার বন্যায় প্রায় ১৫ হাজার বিঘা (২১০ হেক্টর) ফসলী জমি  নিমজ্জিত আক্রান্ত হয়। তবে সব জমির সব ফসল নষ্ট হয় নি।
সদরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নুরুল ইসলাম বলেন, সার্বিক ক্ষতির প্রতিবদেন তৈরী হচ্ছে। জরুরী পরিস্থিতি মোকাবেলায় মজুদ আছে পশু খাদ্য সহায়তা,চাল, নগদ টাকা,শিশু খাদ্য, শুকনো খাবার প্যাকেট, টিন, স্যালাইন ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট। শিবগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)  আজাহার আলী বলেন, বন্যায় বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্থদের সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে পূণর্বাসনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এছাড়া চলমান সরকারি  ও বেসরকারি সাহায্য অব্যহত থাকবে।


এ জাতীয় আরো খবর