মঙ্গলবার, আগস্ট ১৮, ২০২৬

চাঁপাইনবাবঞ্জের গোমস্তাপুরে মহিলা মাদ্রাসার আবাসিক দুই শিশু শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু

  • জাকির হোসেন পিংকু
  • ২০২৫-০৮-১৬ ১৮:২৪:২৪
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের বাসুদেবপুর ডুবার মোড় এলাকায় শেফালী বেগম মহিলা নুরানী হাফিজিয়া আবাসিক মাদ্রাসার দুই শিশু শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। শিশু দু’জন হল একই ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের লেবুডাঙ্গা গ্রামের মো.তরিকুলের মেয়ে মোসা.তানিয়া(১২) ও ৯ নং ওয়ার্ডের বেগপুর গ্রামের সবুর আলীর মেয়ে মোসা.জামিলা (১০)। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি,পুলিশ,মাদ্রাসা ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়,গত শুক্রবার রাতে একত্রে খাবার পর মাদ্রাসার শিশুরা ঘমিয়ে পড়ে। রাত দেড়টার দিকে একতলা পাকা মাদ্রাসা ভবনের আবাসিক হলকক্ষে একত্রে ১৩ শিশু ঘুমিয়ে থাকার সময় হঠাৎ তানিয়া ও জামিলা অসুস্থ বোধ করে ও বমি করতে থাকে। বিষয়টি টের পেয়ে মাদ্রাসায় অবস্থানরত একমাত্র শিক্ষিকা সাহিদা বেগম স্থানীয়দের ও শিশুদের পরিবারে খবর দেন। শনিবার(১৬ আগষ্ট) ভোররাত ৩টার দিকে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আলিম ্উদ্দিন প্রথমে জামিলাকে মৃত ঘোষণা করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তানিয়াও মারা যায়। তাকে ঠিকমত চিকিৎসার সূযোগই পাওয়া যায় নি বলে জানান চিকিৎসক। মেডিক্যাল অফিসার আলিম বলেন,তানিয়ার নাক দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। তার বাম পায়ের গোড়ালিতে একটু ছড়ে যাবার চিহ্নও পাওয়া গেছে। অপরদিকে জামিলার দেহে বাহ্যিকভাবে তেমন কোন চিহ্ন মেলে নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে,সাপের কামড় বা কোনরকম বিষক্রিয়ায় শিশু দুজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদেহের পরিবর্তনের লক্ষণও সেইরকম। যেহেতু মাদ্রাসার অন্য শিক্ষার্থীরা আক্রান্ত হয় নি, তাই ঘটনাটি খাদ্যে বিষক্রিয়াজনিত নাও হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন ডা.আলিম। গোমস্তাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওয়াদুদ আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর বলেন, শিশু দুজনের মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত নয়। তবে সাপের কামড়ে তাদের মৃত্যু হতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবদেন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এ ব্যাপারে থানায় পৃথক দুটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে বলেও জানান ওসি। সংশ্লিস্ট ইউপি চেয়ারম্যান মতিউর রহমান শিশুদের পরিবারের সাথে কথা বলে এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শণ ও পুলিশের সাথে ঘর তল্লাশীর পর বলেন, শিশুদের মৃত্যুর সঠিক কারণ বলা যাচ্ছে না। তবে সাপের কামড় বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে বলেও জানান চেয়ারম্যান। শিশু দ’জনের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। সংশ্লিস্ট ইউপি ওয়ার্ড সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, ভবনটির চারদিকে ঝোপ-জঙ্গল রয়েছে। সাপের কামড়ে শিশুদের মৃত্যু হয়েছে বলে শোনা গেছে। ওই এলাকায় বিষাক্ত সাপের উপদ্রব রয়েছে। মাদ্রাসার কেয়ারটেকার ওবাইদুল ইসলাম বলেন, বিষাক্ত সাপের কামড়ে শিশুদের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে জেলা হাসপাতালের ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক শামসুল আলম রাশেদ বলেন, বাহ্যিক কোন আঘাতে শিশু দুজনের মৃত্যু হয়নি। তবে বিষক্রিয়াজনিত কারণে হতে পারে। একজনের সাপের বিষেও হতে পারে। তবে খাদ্যে বিষক্রিয়াজনিত মৃত্যু এগুলো নয় বলেই মনে হচ্ছে। শিশুদের ভিসেরা পরীক্ষার জন্য ঢাকা পাঠানো হবে। রিাপোর্ট এলে মৃত্যুও কারণ বোঝা যাবে।

এ জাতীয় আরো খবর