সোমবার, আগস্ট ২৪, ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জে নির্মাণাধীন মহানন্দা সেতুর পাশ থেকে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে মানববন্ধন

  • জাকির হোসেন পিংকু,
  • ২০২৫-০৮-০৯ ২২:৫৫:৪০

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট উপজেলার সংযোগ সড়কে  মহানন্দা নদীর উপর ৬৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ৪২৮ মিটার দীর্ঘ সেতুর পাশ থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলণের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয়রা। মানববন্ধনে দাবি করা হয়,এই বালু উত্তোলন অবৈধ। এই বালু নিয়ম না মেনে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে নির্মাণাধীণ সেতুর নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। নদীপাড়ের বাসিন্দারা ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। তবে কতৃপক্ষ বলছে, বালু অনুমতি নিয়ে তোলা হচ্ছে। এত কোন ক্ষতির আশংকা নেই।  
শনিবার(৯ আগষ্ট) বিকালে ভোলাহাটের দলদলি ইউনিয়নের বারইপাড়া ফহরম ঘাটে মানববন্ধন করেন সংশ্লিষ্ট ভোলাহাটের দলদলি ও গোমস্তাপুরের বাঙ্গাবাড়ী  ইউনিয়নের বাসিন্দারা। নদীর তীরে দাঁড়িয়ে প্রায় ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য দেন আসমাউল হোসেন,মো. হারুন. সারোয়ার জাহান, মাসুদ রানা প্রমুখ।
তাঁরা  বলেন, এটি স্বপ্নের সেতু। আগে এখানে ফেরি চলত। এখন বালু তোলার জন্য যদি সেতু ভবিষ্যতে ক্ষতিগ্রস্থ হয় বা স্থায়ীত্ব কমে যায় তবে তা হবে দূ:খজনক। এমনকি দূর্ঘটনাও ঘটতে পারে। ভভিষ্যতে নদীর দু’তীরের বাড়ি,স্থাপণা ও জমি ক্ষতির মূখে পড়তে পারে। সেতুর ঠিকাদারই এ বালু উত্তোলণ করছেন। বালু উত্তোলণ নিয়ে পূর্বে একবার মোবাইল কোর্ট অভিযান চালিয়েছে। জব্দ করেছে ড্রেজার। তবে এরপরও থেমে নেই বালু তোলা। এই বালু  উত্তোলণে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে দাবি করে বক্তরা আরও বলেন, এ ব্যাপারে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টরা  দ্রæত ও যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে কঠোর কর্মসূচী দেয়া হবে।
এ ব্যাপারে সেতু নির্মাণকারী এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, সরকারি নিয়ম মেনে সংশ্লিস্ট কমিটির অনুমোদনে  ও জেলা প্রশাসকের অনুমতিতে ঠিকাদার বালু তুলছে। এই বালু সেতু ও এপ্রোচ সড়কে ব্যবহার হচ্ছে। এই বালু তোলা অবৈধ নয়। এতে কোন ক্ষতি হবে না। সেতু নির্মাণ শেষের পথে।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীব বলেন, এই বালু উত্তোলণে  ক্ষতি হবে কিনা তা স্থানীয়দেও দাবির মূখে আবারও খতিয়ে দেখা হবে।
ভোলাহাটের ইউএনও মো.মনিরুজ্জামান বলেন, সেতু নির্মাণের বিষয়টি প্রকৌশলগত। বালু তোলাতে সেতুর বা এলাকাবাসীর ক্ষতি হবে কিনা তা এলজিইডি ও পাউবো ভাল বলতে পারবে। তবে যেহেতু  কিছু জনগণ প্রতিবাদ করছেন তাই বিষয়টি তারা আরেকটু গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে পারেন।
গোমস্তাপুরের ইউএনও জাকির মুন্সি বলেন, আগে যখন অবৈধভাবে বালু তোলা হচ্ছিল তখন মোবাইল কোর্ট,ড্রেজার জব্দ ও এমনকি নিয়মিত মামলাও করা হয়েছে। পরে প্রশাসনের অনুমতিতে নিয়মানুযায়ী বালু তোলা হচ্ছে। সরকারকে নির্দিষ্ট টাকা দিতে হচ্ছে। ওই বালু কি কাজে ব্যয় হচ্ছে তা দেখারও কমিটি রয়েছে। উন্নয়ন কাজে বালু তোলার নিয়ম রয়েছে। তবে কিছু এলাকাবাসী যেহেতু আপত্তি করছেন সেহেতু পাউবো ও এলজিইডি বিষয়টি আরেকটু খতিয়ে দেখতে পারে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের সভায় আলোচনা করা হবে। 

 


এ জাতীয় আরো খবর