প্রারম্ভিক সূচনায় সময় শান্ত নদীর মতোই
বয়ে যেত কালচক্রের রথে চেপে,
তারপর একদিন অন্তিমলগ্নে এসে দেখলো !
জোয়ারের স্রোতে যতটুকু এগিয়েছিল,
ভাটার টানে, ততটাই পিছিয়েছে,
স্থির একটি বিন্দু, অথচ অনাগত সময় তাকে টানছে।
সময়ের অন্তিমলগ্ন মানুষ ঘোষণা করেছে।
কালচক্রের রশি টেনে, অগণিত শিকলে সে নিজেকে নিজেই বন্দী করেছে।
মেয়েটির নাম তিস্তা,
শৈশব, কৈশোর, যৌবন রেলগাড়ির মতোই
হুস করে পার হয়ে,
কখন যে সে শেষ স্টেশনে পৌঁছে গেছে
তা আজ আর মনে পড়ে না।
মেয়েটিও নদী হতে চেয়েছিল,
তার বুকের মধ্যে ছোট ছোট ঢেউ, ওঠাপড়া
কেউ দেখেনি, দেখতে চায়নি !
তারপর একদিন তরঙ্গের বুক চিরে বুকফাটা আর্তনাদ,
সমাজ কানে আঙুল দিয়েছিল,
তিস্তার মতোই তার আকুল, অদম্য, অশ্রুত গান
পাহাড় ছিঁড়ে আকাশ বাতাস মুখরিত করেছিল সেদিন।
তিস্তার গান গাওয়া নিষিদ্ধ,
সমাজ তাকে স্রোতের বিপরীতমুখে দাঁড় করিয়েছে।
মেয়েটি ভালবাসা কি জানতো,
তার ছোট্ট মুঠিতে ছিল একমুঠো শিউলি,
তার ভালোবাসার সাহস !
সমাজ তখন নৌকা,
অথচ তিস্তার পা, গোড়ালি মাটিতে গাঁথা।
সওয়ারি হওয়া তার হলো না।
মাঝির মেঘমল্লার সাবধান@বাণী ভেসে এসেছিল,
সামাল মেয়ে সামাল !
তিস্তা দেখেছিল, পাড়ে দুলতে থাকা অদৃশ্য লোহার শিকল।
বুক চিরে ফালাফালা করে দিয়েছিল তার প্রেম, স্বপ্ন আর গান।
কিন্তু প্রেম যে সময় মানে না !
শিকল চেনে না,
জানে শুধু বয়ে চলা, অনন্ত নদীর মতো।
তিস্তা হাসে,
সে জানে, আজও সে পাহাড় ফাটিয়ে গান গেয়ে উঠতে পারে,
নিজেকেও ধুয়ে নিতে পারে নিজেরই জলে।