এক নয় দুই নয় চার চারটি ঘর ভেঙেছে মতিজানের
বিচিত্র অভিজ্ঞতা তার-
প্রথম ঘর ভাঙলো সর্বনাশা যুদ্ধে, গুলি খেলো বুকে
খয়বর আলি মুক্তিযোদ্ধা ছিল
বিয়ের চার মাসের মধ্যেই বিধবা হলো
সে অর্থে এ ঘর ভাঙেনি, বিধাতাই বিধবা করেছে তাকে।
দ্বিতীয় ঘর ভাঙলো কেন ? কার দোষে !
মতিজানের দোষ নেই, একটু মিষ্টি কথার কাঙালিনী সে
খাওয়াপরা যা-ই হোক, মিষ্টি কথাতেই তার পেট ভরতো,
জহুর বাঙালির সম্পদ কম ছিল না, সামাজিক প্রতিপত্তিও ছিল ঢের,
মিথ্যে সন্দেহে বউ পেটানোর বাতিক ছিল তার
তাই ঘর ভাঙলো মতিজানের।
তৃতীয় ঘর ভাঙলো কেন !
লজাবত সাকিদার ছিল নারী বিমুখ-নপুংসক
এটাও মনঃপীড়ার কারণ নয়,
পেটে খিদে থাকলে শরীরের কামড় থাকে না,
সাকিদার ঘরে পরপুরুষ আনতো প্রতিরাত।
নারীর শরীরই যদি উপাদেয় পরপুরুষের পুষ্টিতে
তবে লাথি মারো অমন স্বামীর মুখে।
দো-ভাতারি, তে-ভাতারি নারী মতিজান
অপবাদ নিন্দা তার ডালভাত ঘরে ও সমাজে,
চতুর্থ পুরুষটাও এক নারীতে সন্তষ্ট ছিল না
মাতাল চোখে খুঁজে নিত্য ঘিঞ্জি গলি, রেললাইনের বস্তি।
মতিজানের নতুন ঘরবাঁধার আর ইচ্ছে নেই
জীবনযৌবন গড্ডালিকায় ভেসে গেছে বলে।