বুধবার, আগস্ট ১৯, ২০২৬

আগুনের বলয়ে হারিয়ে গেল স্বপ্নবতী মায়া

  • সকালের আলো ডেস্ক:
  • ২০২৫-০৭-২৫ ২১:০২:১১
ছবি সংগৃহিত

মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ক্যাম্পাস। হঠাৎ বিস্ফোরণে লণ্ডভণ্ড আকাশপথের শহর ঢাকা। শিক্ষার্থীদের মাঝে চিৎকার, ছুটোছুটি। সেই ভয়াবহ মুহূর্তে পোড়া শরীর নিয়ে ছুটে বেড়াচ্ছিল এক কিশোরী-চোখে তীব্র যন্ত্রণা, শরীরে আগুনের দাহ।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া সেই হৃদয়বিদারক ভিডিওর মেয়েটিই ছিল মাহিয়া তাসনিম মায়া।
সেই দগ্ধ মেয়েটির জীবনের শেষ অধ্যায় শেষ হলো বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই)। ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইনস্টিটিউটে মৃত্যুর কাছে হার মানেন মেহেরপুরের জয়পুর গ্রামের এই শিক্ষার্থী।
আজ শুক্রবার (২৫ জুলাই) ভোরে নিজ গ্রামে পৌঁছায় মায়ার নিথর দেহ। সকাল সাড়ে ৮টায় জানাজা শেষে জয়পুর কবরস্থানে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। কান্নায় ভেঙে পড়েন গ্রামবাসী, মায়ার শিক্ষক-বন্ধুরা, আত্মীয়স্বজন এবং সর্বোপরি তার মা।
২০১৯ সালে স্বামী ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে দুবাইয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তারপর দুই মেয়েকে নিয়েই বেঁচে থাকার লড়াই শুরু করেন আফরোজা আক্তার বিউটি। বড় মেয়ে মায়াকে মানুষ করবেন, নিজের স্বপ্নে সাজাবেন তার ভবিষ্যৎ-এমন আশাতেই দিন গুনছিলেন। কিন্তু সেই স্বপ্নই যেন এখন বিষাদের এক দীর্ঘ অনুরণন।
মায়ার মৃত্যুতে নিঃশব্দ কান্নায় ভেঙে পড়েছেন বিউটি। মেয়ে হারানোর যন্ত্রণায় বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তিনি। পাশের মানুষজনও তাঁকে শান্ত করতে পারছেন না। ছোট মেয়ে মালিহা এখনো বুঝে উঠতে পারেনি কী ঘটে গেছে তার সঙ্গে।
সোমবার দুপুর। প্রতিদিনের মতোই স্কুলে আসে মায়া। বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন তার মা আফরোজা। হঠাৎ বিস্ফোরণ। ছুটে যান ভিতরে মেয়েকে খুঁজতে। বারবার ফোন দেন মায়ার মোবাইলে—একজন বান্ধবী ফোন ধরে জানান, তারা আহত অবস্থায় উদ্ধারকারীদের সহায়তায় বের হয়েছেন।
এরপর দ্রুত মায়াকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। কিন্তু ৩৫ শতাংশের বেশি দগ্ধ অবস্থায় শেষ রক্ষা হয়নি।বৃহস্পতিবার বিকেলের দিকে নিঃশ্বাস থেমে যায় মায়ার।
মায়ার মৃত্যু শুধু এক পরিবারের স্বপ্নভঙ্গ নয়, এটা যেন গোটা সমাজের বিবেককে নাড়া দিয়েছে।
মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা এখনো বিশ্বাস করতে পারছে না যে, তাদের সহপাঠী আর নেই।
আর জয়পুর গ্রামের মানুষ-যারা বহু আশা নিয়ে তাকিয়ে ছিলেন “ইঞ্জিনিয়ার সাহেবের মেয়েটা” একদিন নাম করবে-তারা আজ বাকরুদ্ধ।
ছোট্ট একটা জীবন, অসমাপ্ত একটা গল্প
শুধু এক মেয়ের জীবনই হারায়নি।
হারিয়ে গেছে এক সম্ভাবনা।
এক পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে।
এক সমাজ প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে-আমাদের শহর কি নিরাপদ? আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কি নিরাপদ?
মায়ার শোকসন্তপ্ত মা এখন শুধু একটা কথাই বলছেন- "আমার মেয়েটা তো স্কুলে গেছিল,যুদ্ধ করতে না!"

 


এ জাতীয় আরো খবর