বুধবার, আগস্ট ১৯, ২০২৬

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি পক্ষপাতের অভিযোগ নুরের: “গণ-অভ্যুত্থনের চেতনায় অবমূল্যায়ন চলছে”

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৫-০৭-২৩ ২৩:০১:৫৩
ছবি সংগৃহিত

২৩ জুলাই ২০২৫, বুধবার
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কর্মকাণ্ডে পক্ষপাতিত্ব এবং বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ তুলেছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত সরকারের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হলে, জনসমর্থন সরেও যেতে পারে।”
বুধবার বিকেলে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ১৩টি দলের মতবিনিময় সভা শেষে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন নুর।
নুর বলেন, “বিএনপি রাষ্ট্রীয় রাজনীতিতে একটি বড় দল, তাদের সঙ্গে আলোচনা হতেই পারে। কিন্তু সরকার যেসব দলকে ‘বড়’ হিসেবে বিবেচনায় নিচ্ছে, তার ভিত্তি কী? গতরাতের বৈঠকে যে চারটি দল ছিল, তার একটি তো সদ্য গঠিত, নিবন্ধনই নেই।”
তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এভাবে দল বাছাই করা হলে বৃহত্তর গণআকাঙ্ক্ষা কীভাবে প্রতিফলিত হবে?”
নুরুল হক নুর বলেন, “এই সরকার এসেছে জনগণের আন্দোলনের ফসল হিসেবে। এখন যদি সেই গণ-অভ্যুত্থনের অংশীজনদের মূল্যায়ন না করা হয়, তাহলে সেটি চরম অবিচার। আমরা চাই অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ আচরণ।”
তিনি বলেন, ১৩টি দলের পক্ষ থেকেই আজকের বৈঠকে এই বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ তোলা হয়েছে।
চট্টগ্রামের আইনজীবী হত্যাকাণ্ড এবং গোপালগঞ্জে সম্ভাব্য সংঘর্ষ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন নুর। তার ভাষায়, “সরকার যদি আগাম পরিস্থিতি আঁচ করতে না পারে, তাহলে গোয়েন্দা সংস্থার দক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে। পতিত স্বৈরাচারী শক্তিগুলো আবারও নাশকতার চেষ্টা চালাতে পারে-এই আশঙ্কা অমূলক নয়।”
জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠনে সরকারের আচরণেও পক্ষপাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন নুর।তিনি বলেন, “এক-দুটি দলের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে তা বৃহত্তর জনমতকে অগ্রাহ্য করার শামিল। কমিশন যদি দেশের ভবিষ্যতের রূপরেখা হয়, তবে সেখানে সকল পক্ষের সম্মিলিত মতামত থাকা জরুরি।”
জনপ্রতিনিধিহীনতা এবং অকার্যকর স্থানীয় প্রশাসন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এলাকাভিত্তিক বিশৃঙ্খলা বাড়ছে। প্রশাসনের একক নিয়ন্ত্রণ জনগণের আস্থা ফেরাতে পারছে না। এজন্য ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দেওয়া জরুরি।”
ছাত্র রাজনীতিতে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে নুর বলেন, “গত ১১ মাসে শুধুমাত্র এনসিপির সঙ্গেই সরকার বসেছে। অথচ অন্যান্য ছাত্রসংগঠনগুলো বারবার সংলাপ চেয়েছে, কিন্তু কোনো জবাব দেওয়া হয়নি।”
তিনি বলেন, “আজকের বৈঠকে আমরা প্রস্তাব দিয়েছি-বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সরকার যেন সরাসরি মতবিনিময়ে বসে। সরকারের পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে ইতিবাচক আশ্বাসও মিলেছে।”
গণঅধিকার পরিষদের নেতা হিসেবে নুরুল হক নুর শুধু সমালোচনার তীর ছুঁড়লেন না, বরং সংলাপ ও সমঝোতার আহ্বানও জানালেন।
তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট-গণ-অভ্যুত্থানের ফসল যদি আবার ক্ষমতাকেন্দ্রিক পক্ষপাতের শিকার হয়, তবে জনআস্থার সংকট অনিবার্য।

কিওয়ার্ডসঃ নুরুলহকনুর,অন্তর্বর্তীকালীনসরকার,জাতীয়ঐকমত্যকমিশন,গণঅধিকারপরিষদ,NurulHaqueNoor


এ জাতীয় আরো খবর