চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জর জেলা আওয়ামী লীগের তিন সহ-সভাপতি সহ ৮ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারা হলেন, জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি এবং জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমীন, জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি এবং জেলা বিএমএ সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা স্বাচিপ সভাপতি ডা. গোলাম রাব্বানী, জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি এবং জেলার গোমস্তাপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়াম্যান হূমায়ুন রেজা,চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম(৪০), জেলার নাচোল পৌর আ’লীগ সদস্য মঞ্জুর আনসারী(৪২),পৌর যুবলীগ সদস্য আমিত হাসান মিঠুন(২৭),জেলার শিবগঞ্জ পৌর ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম- সম্পাদক সাফিউল ইসলাম নীরব(২৭ঁ),সদরের মহারাজপুর ইউনিয়ন আ’লীগ সদস্য দুরুল হোদা (৩৬)।
বুধবার(২৩ জুলাই) দুপুরে আদালতে হাজিরা আত্মসমর্পণ করতে প্রবেশের সময় ও বের হবার সময় শিবির নেতা তুহিন হত্যা মামলার আসামী রুহুল আমীন ও ডা.রাব্বানী শিবির নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়েন। আদালত ফটক দিয়ে বের হবার সময় তাঁদের উপর ডিম নিক্ষেপ করা হয়। শিবির কর্মীরা আদালতের বারান্দায় শ্লোগান দেয়। প্রবেশের সময় আ’লীগ নেতাদের সাথে আসা এক ব্যাক্তিকে মারধরের চেষ্টা করা হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং মারধরের শিকার ব্যাক্তিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজ বলেন,বুধবার দুপুর ২ টার দিকে আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি রুহুল আমীন ও ডা. রাব্বানীকে জেলা জজ আদালতের সামনের সড়ক থেকে এবং সহ-সভাপতি হুমায়ুন রেজাকে বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে গোমস্তাপুরে নিজ বাড়ির সামনে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাাড়া বাকী ৫ নেতাকর্মীকে গত মঙ্গলবার(২২ জুলাই) দিবাগত রাতে নিজ নিজ এলাকা থেকে পূর্বে দায়েরকৃত পৃথক বিস্ফোরক মামলার তদন্তেপ্রাপ্ত আসামী হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই ৫ জনকে বুধবার বিকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপরদিকে আটক তিন সহ-সভাপতির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাঁদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল ওদুদ বলেন, বুধবার দুপুর ১২টার দিকে রহুল আমীন ও ড. রাব্বানী শিবির নেতা তুহিন হত্যা মামলার আসামী হিসেবে উচ্চ আদালতের ৮ সপ্তাহের জামিন শেষে আদালতের নির্দেশে জেলা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে বন্ড জমা দিয়ে জামিন আবেদন করেন । আদালতের বিচারক জেলা দায়রা জজ মো: মিজানুর রহমান তঁাঁদের জামিন শুনানীর তারিখ পরিবর্তন(সিফট) করে আগামী ২৮ জুলাই নির্ধারণ করেন।
এদিকে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মতিউর রহমান আদালত ভবনে বিশৃঙ্খলা প্রসঙ্গে বলেন, বিষয়টি রাজনৈতিক। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। হাজিরা দিতে আসা দুই নেতা রুহুল আমীন ও ডা. রাব্বানীকে নিরাপত্তা দিয়ে আদালতে প্রবেশ ও বাহির হবার পথ করে দিয়েছে। পরে তাঁদের আটক করা হয়।