মঙ্গলবার, জুলাই ২৮, ২০২৬

কক্সবাজারে বিএনপি-এনসিপি উত্তেজনা: ‘গডফাদার’ মন্তব্য ঘিরে বিক্ষোভ, বড় কর্মসূচির ঘোষণা

  • কক্সবাজার প্রতিনিধি
  • ২০২৫-০৭-২০ ১২:৪৫:১৭
ছবি সংগৃহিত

কক্সবাজারে বিএনপি ও ন্যাশনাল কনসেনসাস পার্টি (এনসিপি)-র মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে উঠেছে। এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাসির উদ্দীন পাটোয়ারীর বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে জেলার রাজনীতিতে সৃষ্টি হয়েছে অস্থিরতা। তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে ‘গডফাদার’ আখ্যা দিয়ে কুরুচিকর বক্তব্য দেওয়ায় ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
গত ১৯জুলাই (শনিবার) কক্সবাজারে এনসিপির একটি সমাবেশে নাসির উদ্দীনের বিতর্কিত মন্তব্যের পরপরই রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। ছাত্রদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা এনসিপির ব্যানার-পোস্টার ছিঁড়ে ফেলে ও সমাবেশ মঞ্চ ভাঙচুর করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এরপর এক বিবৃতিতে ছাত্রদলের স্থানীয় নেতারা জানান, “একজন জাতীয় নেতা, যিনি দুইবার সংসদ সদস্য ছিলেন এবং যাঁর কক্সবাজারে অগণিত সমর্থক রয়েছে, তাঁকে নিয়ে এমন অবমাননাকর মন্তব্য বরদাশত করা হবে না।” তারা দাবি করেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা না চাইলে, বৃহত্তর কর্মসূচির মাধ্যমে রাজনৈতিক জবাব দেওয়া হবে।
শনিবার থেকেই কক্সবাজার শহর, রামু, উখিয়া, টেকনাফ, চকরিয়া, পেকুয়া ও কুতুবদিয়ায় ছাত্রদল ও বিএনপির অঙ্গসংগঠনের ডাকে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশগুলোতে নাসির উদ্দীনের বক্তব্যের নিন্দা জানানো হয় এবং তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সোমবার (২১ জুলাই) বিকেল ৩টায় জেলা বিএনপির ব্যানারে বড় পরিসরে প্রতিবাদ মিছিল ডাকা হয়েছে। এই কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেবেন কক্সবাজার-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা লুৎফুর রহমান কাজল। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করবে বলে জানানো হয়েছে।
জেলা বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, “এই মিছিল হবে শান্তিপূর্ণ, তবে প্রয়োজনে দলীয় নেতার সম্মান রক্ষায় আমরা আরও কঠোর অবস্থান নিতে প্রস্তুত।”
এ প্রসঙ্গে কক্সবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইলিয়াস খান বলেন, “আমরা যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে প্রস্তুত। শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং টহল জোরদার করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, “এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন,এ ঘটনার প্রেক্ষিতে স্থানীয় রাজনীতি পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, নাসির উদ্দীনের বক্তব্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এতে বিএনপির ঘাঁটি এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে। যদি দ্রুত ক্ষমা না চাওয়া হয়, তাহলে বিষয়টি আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে।

কিওয়ার্ডস: কক্সবাজাররাজনীতি,BNCvNCPClash,NasirUddinControversy,SalahuddinAhmed,বিএনপিবিক্ষোভ, কক্সবাজারবিএনপি,সালাহউদ্দিনআহমেদ,কক্সবাজারসংঘাত


এ জাতীয় আরো খবর