মঙ্গলবার, জুলাই ২৮, ২০২৬

উত্তরার সেই গুলিবিদ্ধ জুনাইদুর রহমান এখনো যন্ত্রণায় কাতর,তবুও যোগ দিয়েছেন জামায়াতের সমাবেশে

  • নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • ২০২৫-০৭-১৯ ১৫:১৫:৩৮
ছবি সংগৃহিত

২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের এক ভয়াবহ ঘটনার নাম গাজী মো. জুনাইদুর রহমান। স্নাইপারের গুলিতে আহত হয়েও যিনি থেমে যাননি, আজও সেই গুলির ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন। তার ডান হাতের তিনটি আঙুল অচল, প্রতিনিয়ত নিতে হচ্ছে চিকিৎসা ও থেরাপি। তবু এত কিছুর পরও তিনি হাজির হয়েছেন জাতীয় রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে-বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সমাবেশে।
গত বছরের ১৮ জুলাই, উত্তরা বিএনএস সেন্টারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে জুনাইদুর রহমান গুলিবিদ্ধ হন। তিনি টঙ্গীর তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার আলিম দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।
তাকে লক্ষ্য করে ছোড়া স্নাইপারের গুলিতে গুরুতর আহত হন তিনি। তিনটি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পেট থেকে গুলি বের করা সম্ভব হলেও তার ডান হাতের রগ ছিঁড়ে যায়, অকেজো হয়ে পড়ে তিনটি আঙুল। এখনও পুরোপুরি সেরে ওঠেননি তিনি।
শনিবার (১৯ জুলাই) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত জাতীয় সমাবেশে অংশগ্রহণ করে বক্তৃতা দেন গাজী জুনাইদ। তার উপস্থিতি জনসাধারণ ও দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করে।
অনেকেই স্মরণ করেন, গত বছর আন্দোলনের সময় তাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া তীব্র প্রতিবাদ ও সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড়।

সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জুনাইদ বলেন: “সংস্কারের নামে ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসন এখনো চলছে। আমরা যারা গত বছর জীবন বাজি রেখে আন্দোলন করেছি, তারা জানি-এই পরিবর্তন এখনো অসম্পূর্ণ।”
তিনি আরও বলেন: “জুলাই অভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না। যারা হাজারো প্রাণ নিয়েছে, তারা কোনোভাবেই একটি রাজনৈতিক শক্তি হয়ে থাকতে পারে না। তারা সন্ত্রাসী।”
জুলাই ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন: “আমরা এমন একটি নির্বাচনী ব্যবস্থা চাই যেখানে পক্ষপাত থাকবে না। সংস্কারের নামে যদি পুরোনো ফ্যাসিবাদ আবার রাজনীতিতে আসে, তাহলে তা হবে শহীদদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।”
এই বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল-বর্তমান সরকারের উপরও রয়েছে চাপ ও প্রত্যাশা। কেননা, গণতান্ত্রিক উত্তরণে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে যদি ব্যর্থতা আসে, তবে আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়ে যাবে।
জাতীয় সমাবেশটি শুরু হয় দুপুর ২টায়। সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি উপস্থিত হলে দলীয় নেতাকর্মীরা স্লোগান দিয়ে তাকে স্বাগত জানান।
এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে ছিল ব্যাপক নিরাপত্তা ও জনসচেতনতা। সমাবেশে রাজনৈতিক নেতাদের পাশাপাশি আন্দোলনে আহত বা নির্যাতিত অনেক সাধারণ নাগরিক অংশ নেন, যার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নাম ছিল গাজী মো. জুনাইদ।

২০২৪ সালের গণআন্দোলনের এক প্রতীক হয়ে উঠেছেন জুনাইদুর রহমান। তার যন্ত্রণা শুধু একটি শরীরের নয়, তা যেন একটি প্রজন্মের প্রতিচ্ছবি। তার বক্তব্যে ফুটে উঠেছে-আদর্শ পরিবর্তন, সুবিচার, গণতন্ত্র এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের স্পষ্ট সুর।
যতদিন এই যন্ত্রণা থাকবে, ততদিন তার প্রতিবাদও চলবে। তার অস্তিত্বই এখন এক ধরনের রাজনৈতিক দলিল।

কিওয়ার্ডস :গাজীজুনাইদুররহমান,SniperAttackBangladesh,বৈষম্যবিরোধীআন্দোলন,JulyUprising2024, CampusProtestVictim


এ জাতীয় আরো খবর