বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৭, ২০২৬

রংপুরে ভয়াবহ গ্যাস ট্যাংক বিস্ফোরণ: নিহত ১,আহত অন্তত ১৩,দুমড়ে মুচড়ে গেল ২০টি গাড়ি

  • সকালের আলো প্রতিবেদক,রংপুর
  • ২০২৫-০৭-১৯ ১৪:৫৪:৪৮
ছবি সংগৃহিত

রংপুর নগরীর সিও বাজারে একটি এলপিজি ফিলিং স্টেশনে ভয়াবহ বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছেন মো. সোহাগ (৩২) নামের এক ইঞ্জিনিয়ার। আহত হয়েছেন অন্তত আরও ১৩ জন। শনিবার (১৯ জুলাই) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটের দিকে মেসার্স সিও বাজার এলপিজি অটো কনভার্সন সেন্টারে ঘটে যায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। বিস্ফোরণের তীব্রতায় স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় এলাকা, চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায় অন্তত ২০টি অ্যাম্বুলেন্স ও মাইক্রোবাস।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আচমকা এক বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা। মুহূর্তেই ধোঁয়ার কুন্ডলী আকাশে উঠতে দেখা যায়। বিস্ফোরণে আশপাশের বসতবাড়ির কাঁচের জানালা ভেঙে পড়ে, সড়কে চলাচলরত যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং লোকজন আতঙ্কে ছুটতে থাকে।
স্থানীয় বাসিন্দা জামাল হোসেন বলেন, "আমি দোকানে বসে ছিলাম, হঠাৎ মনে হলো ভূমিকম্প হচ্ছে। বাইরে বের হয়ে দেখি এলপিজি স্টেশন উড়ে গেছে। চারপাশ ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছিল।"
গুরুতর আহত অবস্থায় ৫ জনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। এদের মধ্যে ইঞ্জিনিয়ার মো. সোহাগ পরে মারা যান। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের শরীরের ৪০-৫০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। অন্যদেরও বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
বিস্ফোরণের পরপরই ঘটনাস্থলে ছুটে আসে ফায়ার সার্ভিস, সিভিল ডিফেন্স, পুলিশ এবং বিজিবি সদস্যরা। তারা দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। এলাকা ঘিরে রাখা হয় জনসাধারণের নিরাপত্তার জন্য।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স রংপুর অঞ্চলের সহকারী পরিচালক বাদশা মাসউদ আলম বলেন, "ফিলিং স্টেশনটি বন্ধ ছিল এবং রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছিল। ধারণা করা হচ্ছে, খালি রিজার্ভার ট্যাংকে গ্যাস লিক করে জমে গিয়েছিল। অতিরিক্ত চাপের কারণে এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে।"
তবে তিনি আরও জানান, চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। ঘটনাটি তদন্তে একটি কমিটি গঠনের কথা ভাবছে কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ফিলিং স্টেশনটি দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা মানদণ্ড উপেক্ষা করে পরিচালিত হচ্ছিল। নিয়মিত গ্যাস লিকেজ, পুরনো পাইপলাইন ও পর্যাপ্ত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার অভাব ছিল বলে জানান একাধিক ব্যক্তি।
রংপুর মহানগর পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, "ঘটনার তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এলাকাটি আপাতত ঘিরে রাখা হয়েছে।"
এই দুর্ঘটনা আবারও সামনে আনল বাংলাদেশের এলপিজি ফিলিং স্টেশনগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা দুর্বল। যেখানে একটু অসতর্কতা মুহূর্তেই কেড়ে নিতে পারে প্রাণ, সেখানেও নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে ব্যবসা চালানো কতটা ভয়ংকর তা প্রমাণ করল সিও বাজারের এই বিস্ফোরণ।

কীওয়ার্ডস :রংপুর গ্যাস বিস্ফোরণ, সিও বাজার এলপিজি দুর্ঘটনা, ফিলিং স্টেশন বিস্ফোরণ রংপুর, গ্যাস রিজার্ভার বিস্ফোরণ বাংলাদেশ, রংপুর দুর্ঘটনা ১৯ জুলাই


এ জাতীয় আরো খবর