রাতটা ছিল নীরব, ঠিক যেন এক শ্বাসহীন ভালোবাসা।
চাঁদ জানালার কাঁচে হালকা কুয়াশা ছুঁয়ে রেখেছিল,
আর বাতাসে ছিল তোমার চুলের ঘ্রাণ মিশে থাকা কিছু পুরনো শিউলি-
যা ঝরে পড়ে, তবু ফুরোয় না।
তুমি বারান্দায় বসে ছিলে,
হাতে ধরা কাপে ধোঁয়া নয়-আমার জন্য জমে থাকা কিছু প্রশ্ন ছিল,
যা বলোনি কখনো, শুধু তাকিয়ে ছিলে আকাশের দিকে।
আমি চুপচাপ এসে দাঁড়ালাম পেছনে-
তোমার অজান্তেই, অথচ তোমার জানাই ছিল আমি আসব।
তুমি ধীরে ফিরে তাকালে, কিছু বললে না।
তোমার চোখে আমি দেখি-অনেক কিছু না বলেও বলা হয়ে গেছে সব।
আমি কাছে বসে, নিঃশব্দে তোমার হাত ছুঁই।
তোমার হাত ঠান্ডা, অথচ আমার ভেতর জ্বলছে একধরনের শান্ত আগুন-
যেটা শুধু তুমিই জ্বালাতে পারো, নিভাতে পারো।
তুমি বললে না, "থাকবে তো?"
বললে, "তোমার চুপ থাকা আজ যেন অনেক কিছু বলে দেয়।"
আমি শুধু হেসে বললাম,
"তোমার পাশে বসে থাকা-এটাই আমার ঘরে ফেরার ঠিকানা।"
রাত গভীর হয়ে এলো।
তোমার মাথা ধীরে এল আমার কাঁধে,
চাঁদের আলো আমাদের দুজনের মধ্যকার দূরত্বটুকুও গলে দিলো।
কোনো গান ছিল না, কোনো কবিতা নয়-
তবু সেই রাতটাই ছিল
আমাদের জীবনের সবচেয়ে গভীর গল্প।
যেখানে তুমি ছিলে, আমি ছিলাম,
আর মাঝখানে ছিল ভালোবাসার নিঃশব্দ ভাষা।