শুক্রবার, অক্টোবর ২৩, ২০২৬

গোপালগঞ্জ হামলা নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট: দিনাজপুরের এএসপি মোশফেকুর রহমান প্রত্যাহার

  • দিনাজপুর প্রতিনিধি
  • ২০২৫-০৭-১৭ ০২:০৬:৫৯
ছবি সংগৃহিত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের ওপর গোপালগঞ্জে সংঘটিত হামলা নিয়ে ব্যঙ্গ করে ফেসবুক পোস্ট দেওয়ায় দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) মোশফেকুর রহমানকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করেছে কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যায় নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে মোশফেকুর রহমান লেখেন: “ট্যাংকের এসি খুব আরামদায়ক শুনেছি।”
এই বক্তব্যকে এনসিপি ও সংশ্লিষ্ট আন্দোলনকারী ছাত্র সংগঠনগুলো গোপালগঞ্জ হামলায় আহতদের প্রতি কটাক্ষ ও অমানবিক ব্যঙ্গ হিসেবে দেখেছে। পোস্টটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে।
বিতর্কিত পোস্ট প্রকাশের পরপরই দিনাজপুর শহরে প্রতিবাদে ফেটে পড়ে এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। রাত সাড়ে ৮টার দিকে তারা দিনাজপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন।
আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন জেলা ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক একরামুল হক আবির।
তিনি বলেন, “এই পুলিশ কর্মকর্তা এক বছর আগেও আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে গুলির নির্দেশ দিয়েছিলেন। এবার আবার আমাদের রক্ত নিয়ে ব্যঙ্গ করছেন। এটি ক্ষমতার অপব্যবহার।”
তিনি আরও দাবি করেন, “শুধু প্রত্যাহার নয়, তার বিরুদ্ধে মামলা নিয়ে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। অন্যথায় দেশজুড়ে প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়বে।”
দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মারুফাত হোসেন সাংবাদিকদের জানান, “পোস্টটি দেখার সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয় এবং এএসপি মোশফেকুর রহমানকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন।”
তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোশফেকুর রহমানের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রা শেষে দলটির গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে, যা সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঘটনাটিকে "পরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা" হিসেবে বর্ণনা করেন এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার না হলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।
এই পরিস্থিতিতে একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার পক্ষ থেকে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করা নিঃসন্দেহে জনমনে প্রশ্ন ও ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।আন্দোলনকারীদের দাবী-
অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ ও গ্রেপ্তার
পুলিশ বাহিনীর ভেতরে সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশ নিয়ে বিদ্বেষমূলক মনোভাবের প্রতিকার
পুলিশ সদস্যদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নীতিমালা হালনাগাদ করা

জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দায়িত্বে থাকা পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার এমন আচরণে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এখন দেখার বিষয়, তদন্ত কতটা দ্রুত এবং স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয় এবং সরকার বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কী ধরনের বার্তা দেয় এই ঘটনায়।

কীওয়ার্ডস:এএসপি মোশফেক প্রত্যাহার, গোপালগঞ্জ হামলা ফেসবুক পোস্ট, এনসিপি বিক্ষোভ দিনাজপুর, পুলিশের ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য, গোপালগঞ্জ রাজনৈতিক উত্তেজনা


এ জাতীয় আরো খবর