জানালার পাশে বসে আছে অনন্যা। বাইরে হালকা বাতাস বইছে, পাতার কাঁপনে যেন কারও অদৃশ্য উপস্থিতি। আজ ঠিক এক বছর -- রায়ান নেই। সে চলে গিয়েছিলো, কিন্তু কেবল শরীর নিয়ে। অনন্যা জানে, কিছু চলে গেলেও সব যায় না।
রায়ান ছিল কবি। রাত জেগে কবিতা লিখত, মাঝে মাঝে হঠাৎ জিজ্ঞেস করত --
“ভেবো না, যাও বললেই চলে যাবো, তুমি বিশ্বাস করো?”
তখন অনন্যা হেসে বলত, “তুমি না থাকলেও তোমার শব্দ থাকবে।”
তবে আজ সেই কথার মানে সে বুঝতে শিখেছে।
তার ডায়েরির মধ্যে আজ সকালে একটি পুরোনো কাগজ খুঁজে পেল অনন্যা।
রায়ানের হাতে লেখা একটি কবিতা -- ঠিক সেই কবিতা,
“ভেবো না, যাও বললেই চলে যাবো”। কাগজের পাশে ছোট্ট একটা চিঠি --
“তোমার প্রতিটি নিঃশ্বাসে আমি থাকবো। যদি কখনো খুব একা লাগে,
জানালার পাশে দাঁড়িও, আমি বাতাস হয়ে আসব। -- রায়ান”
অনন্যা চোখ বন্ধ করলো। তার চিবুকে বাতাস ছুঁয়ে গেল, যেন রায়ানের ঠোঁটের মতো।
সে জানে, কেউ কেউ চলে যায় না -- থেকে যায় নিঃশ্বাসে, শব্দে, স্মৃতির ফাঁকে।
সে জানালার পাশে দাঁড়ায় প্রতিদিন। মনে মনে বলে --
“তোমাকে ভোলা যায় না রায়ান, কারণ তুমি শুধুই স্মৃতি নও,
তুমি আমার ভিতরকার একটা রন্ধ্র -- যেখানে আশ্রয় নেয় সমস্ত আবেগ।”
অনন্যা আজও রায়ানের লেখা পড়ে, কবিতা লেখে, এবং নিঃশ্বাস নেয় -- এই বিশ্বাসে যে সে একা নয়।