সোমবার, আগস্ট ১৭, ২০২৬

করোনার নীরব প্রত্যাবর্তন: ২৪ ঘণ্টায় ৩ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৯

  • নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • ২০২৫-০৬-২৩ ২২:৪৩:০৮

ঢাকা: ২৩ জুন ২০২৫
করোনাভাইরাস মহামারির ভয়াল ছায়া অনেকটাই কেটে গেলেও এর রেশ থেকে যায়নি। সংক্রমণের হার তুলনামূলকভাবে কম হলেও মাঝে মধ্যেই দেখা দিচ্ছে মৃত্যুর মর্মান্তিক খবর। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন আরও তিনজন। নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ১৯ জন। 
আজ সোমবার (২৩ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, মোট ৪০৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, যাতে শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৬৮ শতাংশ।
মারা যাওয়া তিনজনের মধ্যে দুইজন নারী ও একজন পুরুষ। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে-
একজনের বয়স ৬১–৭০ বছরের মধ্যে,
একজন ৭১–৮০ বছর বয়সী,
আরেকজনের বয়স ৯১–১০০ বছরের মধ্যে।

এদের মধ্যে একজন ছিলেন ঢাকায় এবং দুইজন চট্টগ্রাম বিভাগের বাসিন্দা। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজন ছিলেন সরকারি হাসপাতালে, বাকি দুইজন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত করোনায় মোট শনাক্ত হয়েছেন ৪৫২ জন, আর মৃত্যুর সংখ্যা ১৯।
মহামারির শুরু থেকে মোট মৃত্যুর সংখ্যা এখন ২৯ হাজার ৫১৮ জন, আর মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২০ লাখ ৫১ হাজার ৯৯৭।
যদিও এ সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক কম, তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনাভাইরাস এখনও পুরোপুরি বিদায় নেয়নি। সংক্রমণ হার যখনই বাড়ে, তখন তা বয়স্ক ও রোগপ্রবণ মানুষদের জন্য মৃত্যুঝুঁকি তৈরি করে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. তানভীর রশিদ বলেন, “বয়স্ক এবং রোগে আক্রান্ত মানুষদের জন্য করোনার নতুন স্ট্রেইনগুলো এখনও ঝুঁকিপূর্ণ। সংক্রমণ কম থাকলেও নিয়মিত মনিটরিং, টিকা রিফ্রেশার ডোজ এবং সতর্কতা অপরিহার্য।”
দেশে করোনা টিকার রিফ্রেশার ডোজ কার্যক্রম চালু থাকলেও আগ্রহ কমে গেছে। অনেকে মনে করেন ভাইরাস চলে গেছে, ফলে টিকা নেওয়ার দরকার নেই। কিন্তু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “করোনাভাইরাসের রূপান্তর (মিউটেশন) সবসময়ই চলমান, তাই সুরক্ষা ঢাল হালকা করা যাবে না।”
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশের বড় কোনো অঞ্চল বা শহরে হঠাৎ সংক্রমণ বৃদ্ধি পেলে তাৎক্ষণিকভাবে এলাকায় কন্টেইনমেন্ট জোন ঘোষণার প্রস্তুতি রয়েছে।
মহামারির প্রায় পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে মাস্ক, হাত ধোয়া ও সামাজিক দূরত্বের বিষয়ে শিথিলতা স্পষ্ট। ছোটখাটো সংক্রমণের খবর এলে তা আর গুরুত্ব পাচ্ছে না। এই পরিস্থিতি সম্পর্কে ডা. নুসরাত ইলিয়াস বলেন, “মৃত্যু বা রোগের সংখ্যা কম থাকলে মানুষ উদাসীন হয়। কিন্তু করোনার মতো ভাইরাস একবার ছড়ালে দ্রুত পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে।”
করোনাভাইরাস এখন হয়তো মহামারি নয়, তবে এখনও এক চুপচাপ সক্রিয় স্বাস্থ্য হুমকি। নতুন মৃত্যু ও শনাক্তের তথ্য সেই বাস্তবতাই মনে করিয়ে দেয়। এই সময়ে প্রয়োজন জনসচেতনতা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং টিকাদান কার্যক্রমে পুনরায় সক্রিয়তা আনা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত আপডেট আর জনসাধারণের আন্তরিক অংশগ্রহণই পারে দেশকে সম্ভাব্য নতুন সংক্রমণের ঢেউ থেকে রক্ষা করতে।

তথ্যসূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতামত


এ জাতীয় আরো খবর