কুড়িগ্রাম-১৭ জুন ২০২৫
বিয়ের ঠিক আগমুহূর্তে না-ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন এক তরুণ। কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ট্রলির চাকায় পিষ্ট হয়ে মারা গেছেন মনিরুজ্জামান মুন্না (২৭) নামের এক যুবক। মঙ্গলবার (১৭ জুন) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার নাজিমখান বাজার সংলগ্ন সাকিন মজিদ মেমোরিয়াল হাসপাতালের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মুন্না রংপুর জেলার হারাগাছের বাংলাবাজার ঠাঁকুরদান এলাকার মাহফুজার রহমানের ছেলে। তিনি এবি খালেদ গুল কোম্পানির সেলসম্যান হিসেবে রাজারহাটের নাজিমখান এলাকায় কর্মরত ছিলেন এবং স্থানীয়ভাবে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি মুন্না উপজেলার চাকিরপশার ইউনিয়নের চৌমোহনী মিলপাড় এলাকার মোকছেদ আলীর মেয়ের সঙ্গে বিয়ে রেজিস্ট্রার সম্পন্ন করেন। আগামী শুক্রবার (২০ জুন) ছিল তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা-আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুবান্ধবের উপস্থিতিতে নবদম্পতির নতুন জীবনের সূচনার দিন। কিন্তু তার আগেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় সব প্রস্তুতি থমকে গেল শোকের ছায়ায়।
সকালে নাজিমখানের নিজ বাসা থেকে মোটরসাইকেলে বের হন মুন্না। সাকিন মজিদ মেমোরিয়াল হাসপাতালের সামনে পৌঁছালে হঠাৎ একটি ট্রলি তাকে চাপা দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রলিটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মুন্নাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর ট্রলিটি পাশে একটি খাদে পড়ে যায়।
স্থানীয় দোকানদার মিজানুর রহমান জানান, “মুন্না ভাই আমাদের কাছে খুব চেনা মুখ। সকালে হাসিমুখে বের হলেন, মিনিট দশেকের মধ্যে খবর এলো-তিনি আর নেই! ট্রলিটা খুব দ্রুতগতিতে আসছিল। ধাক্কা মারার পর সবাই ছুটে গিয়ে দেখি-তিনি নিথর হয়ে পড়ে আছেন।”
রাজারহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তসলিম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ট্রলিচালক পলাতক রয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।”
মুন্নার মৃত্যুতে পুরো নাজিমখান ও চৌমোহনী এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বিয়ের বাড়িতে এখন প্রস্তুতির বদলে কান্নার রোল। বর আসবে বলে সাজানো ঘরেই এখন চলছে শোকাচ্ছন্ন পরিবেশ।
স্থানীয় এক সমাজকর্মী বলেন, “এই যুবকটা পরিশ্রম করে স্বাবলম্বী হয়েছিল। বিয়ের জন্য নিজেই প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কে জানত-সেই বিয়ের আমন্ত্রণ পত্রই শেষ বিদায়ের বার্তা হয়ে যাবে।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাজারহাট ও আশপাশের এলাকায় ট্রলি চালকরা বেশিরভাগ সময়েই বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চালান। পর্যাপ্ত লাইসেন্স, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বা ট্রাফিক তদারকি না থাকায় প্রায়শই ঘটছে দুর্ঘটনা। মুন্নার মৃত্যু যেন এ চিত্রের আরেক মর্মন্তুদ সংযোজন।
একটি সম্ভাবনাময় জীবন, একটি প্রতীক্ষিত বিয়ে এবং একটি পরিবার-সব কিছু এক নিমিষেই থেমে গেল একটি অনিয়ন্ত্রিত ট্রলির চাকার নিচে। প্রশ্ন উঠেছে-এই দায় কে নেবে? আর কত প্রাণ গেলে রাস্তায় ফিরবে শৃঙ্খলা?