মঙ্গলবার, মে ২৬, ২০২৬

অনৈতিক প্রস্তাবের অভিযোগে বিতর্কে সারোয়ার তুষার,বললেন ‘কুৎসা অভিযানে’ তিনি টার্গেট

  • নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • ২০২৫-০৬-১৭ ১৫:৪৬:৩০
ছবি সংগৃহিত

ঢাকা-১৭ জুন ২০২৫
নিজ দলের এক নারী নেত্রীকে অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন নবগঠিত জাতীয় গণতান্ত্রিক জোটের (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার। সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া একাধিক অডিও ক্লিপ এবং চ্যাটবার্তার স্ক্রিনশটকে ঘিরে শুরু হয় এ বিতর্ক।
তবে এই তরুণ রাজনৈতিক নেতা বিষয়টি নিয়ে অবশেষে মুখ খুলেছেন। মঙ্গলবার (১৭ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই অভিযোগগুলোকে ‘পরিকল্পিত রাজনৈতিক চরিত্রহননের অংশ’ বলে দাবি করেন।
সারোয়ার তুষার পোস্টে লেখেন, “আমি ভুলত্রুটির ঊর্ধ্বে না। মানুষ হিসেবে আমার আরও উন্নতির সুযোগ আছে। যদি কোনো ভুল করি, নিশ্চয়ই তা জানাবেন। আমি শুধরে নিতে প্রস্তুত আছি। তবে আমি কোনো অপরাধ করিনি। আমাকে এভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রায়ালের মধ্যে ফেলে দেয়া অনুচিত।”
তার দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে অডিও-চ্যাট ক্লিপ ছড়ানো হয়েছে, তা যথেচ্ছভাবে এডিট ও কাটাছাঁট করা হয়েছে। উদ্দেশ্য ছিল তাকে রাজনৈতিকভাবে অপদস্থ করা।
তুষার অভিযোগ করেন, “আমার দলের নারী নেত্রীদের সম্মানহানি করেই আমাকে চরিত্রহননের চেষ্টা চলছে। একজন নারী সহকর্মীর সঙ্গে আমার ছবি জুড়ে দিয়ে, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে। অথচ তাদের ব্যক্তিগত জীবন আছে, তাদের প্রতি এই অবমাননা অনৈতিক।”
তিনি সামাজিকভাবে নারীদের সম্মান রক্ষার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “নারী রাজনীতিকদের সঙ্গে কোনো নেতার বিরোধ থাকলেও তা যেন কখনোই কুৎসা বা হ্যারাজমেন্টের দিকে না যায়। নারী রাজনীতিকরা সম্মানিত, তাদের মর্যাদা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব।”
তুষার আরও অভিযোগ করেন, “তিন মাস আগের একটি ব্যক্তিগত কথোপকথনের অংশবিশেষ উদ্দেশ্যমূলকভাবে অনলাইনে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এটি ঘৃণ্য এবং নিন্দনীয়।”
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, এর আগেও তার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নাট্যচর্চার একটি ছবি বিকৃত করে বিভ্রান্তিকর প্রচার চালানো হয়েছিল।
সারোয়ার তুষার বলেন, “আমি রাজনৈতিকভাবে সমালোচনার জন্য প্রস্তুত। কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ, কুৎসা রটনা ও ভিডিও ফাঁসের মতো পন্থা গ্রহণ একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। একিলিস হেকটরকে হত্যা করলেও, তার সম্মান রক্ষা করেছিলেন। রাজনীতিতে বিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু সেটা যেন শালীনতার সীমানা না ছাড়ায়।”
তিনি বলেন, তার নামে ছড়ানো কিছু স্ক্রিনশট এবং কথোপকথনের কোনো প্রামাণ্য ভিত্তি নেই। দলের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা চাওয়া হলে তিনি লিখিতভাবে সাড়া দেবেন।
“আমি কাউকে হুমকি দিইনি। এমনকি আমার বক্তব্যেও আমি সংশ্লিষ্ট কাউকে প্রকাশ করিনি। আমার উদ্দেশ্য কাউকে অপমান করা নয়, বরং নিজেকে এবং দলকে পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা দেওয়া,”-যোগ করেন তুষার।
পোস্টের শেষাংশে তিনি উল্লেখ করেন, “আমি জানি আমি কতটুকু সংশ্লিষ্ট, আর কতটুকু ভার্চুয়াল মব অ্যাটাকের শিকার। আমি আরও পরিণত হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাব। যাঁরা আমাকে সমালোচনা করেন, তাঁদের প্রতিও সম্মান রেখে বলি-আসুন রাজনৈতিক বিরোধিতাকে কুৎসার হাতিয়ার না বানিয়ে যুক্তিবাদী অবস্থানে ফিরি। বাংলাদেশপন্থার জয় হোক।”
এ প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত এনসিপি বা দলের কোনো শীর্ষ নেতার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি অভ্যন্তরীণভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে দলীয় ফোরামে আলোচনা হবে।

সোশ্যাল মিডিয়া-নির্ভর রাজনীতির এ যুগে নেতা-কর্মীদের ব্যক্তি জীবনের গণ্ডি কোথায় টানা উচিত-তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে সারোয়ার তুষার ইস্যুতে।


এ জাতীয় আরো খবর