ঢাকা- ১১ জুন ২০২৫
গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী হত্যা মামলায় কারাবন্দী সাংবাদিক দম্পতি শাকিল আহমেদ ও ফারজানা রুপা আজ প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন। তাদের এই সাময়িক মুক্তি দেওয়া হয়েছে রুপার মায়ের জানাজায় অংশগ্রহণের জন্য।
কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আজ বুধবার (১১ জুন) সন্ধ্যায় পৃথক কারাগার থেকে দুজনকে মুক্তি দেওয়া হয়। সাংবাদিক ফারজানা রুপা কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার এবং তার স্বামী শাকিল আহমেদ কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগারে বন্দী ছিলেন।
রুপার মা হোসনে আরা বেগম গতকাল (১০ জুন) সন্ধ্যা ৭টার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর খবর পৌঁছালে পরিবারের পক্ষ থেকে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হয়।
রূপার ভাগ্নে নবনীল সরকার জানান, “খবর পাওয়ার পর দ্রুত যোগাযোগ করা হয়। আজ সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে রুপাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।''
হোসনে আরা বেগমের জানাজা আজ রাত ৯টায় ময়মনসিংহের ঘাগড়া গ্রামে অনুষ্ঠিত হয় বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান বার্তা সম্পাদক শাকিল আহমেদ এবং প্রধান প্রতিবেদক ও উপস্থাপক ফারজানা রুপাকে ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তাদের বিরুদ্ধে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত সহিংসতার মামলায় হত্যা ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়। তারা বর্তমানে বিচারাধীন মামলায় পৃথক কারাগারে বন্দী রয়েছেন।
ঢাকা বিভাগের কারা-মহাপরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবির সাংবাদিকদের জানান, “আইন অনুযায়ী, নিকটাত্মীয়ের মৃত্যুতে বিশেষ পরিস্থিতিতে কারাবন্দীদের প্যারোলে মুক্তি দেওয়া যায়। সবকিছু যাচাই করে আমরা অনুমতি দিয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “রাতে জানাজা শেষে আবার নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তাদের ফিরিয়ে আনা হবে।”
সাংবাদিক মহলে এ ঘটনাটি মানবিক, কিন্তু হৃদয়বিদারক একটি মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বহু সহকর্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশের পাশাপাশি এই দম্পতির প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে তাদের বিচার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও দ্রুততর করার আহ্বান জানিয়েছেন।
মায়ের বিদায়ের মুহূর্তে সন্তান হিসেবে রুপা ও একজন স্বামী হিসেবে শাকিল আহমেদের পাশে থাকার সুযোগ-সাময়িক হলেও-প্যারোলের মাধ্যমে মিলেছে। আইনের কাঠামোর মধ্যেও কখনো কখনো মানবিকতার জায়গা থাকে, এই ঘটনা তারই প্রমাণ।