জাতীয়ভাবে বাংলাদেশে ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে আগামীকাল (শনিবার, ৭ জুন)। তবে এর এক দিন আগেই, আজ শুক্রবার (৬ জুন) সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে চাঁদপুর জেলার অর্ধশতাধিক গ্রামে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা।
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা দরবার শরিফের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে এই আগাম ঈদ উদযাপনের ধারা। বৃহস্পতিবার রাতে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সাদ্রা দরবার শরিফের পীরজাদা মাওলানা মুফতি আরিফ চৌধুরী। তিনি জানান, “আমরা কেবল সৌদি আরব নয়, কোরআন-হাদিসের আলোকে চাঁদ দেখে ঈদ উদযাপন করি। এটি আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের অংশ।”
আজ সকাল সাড়ে সাতটায় অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রথম ঈদ জামাত সাদ্রা দরবার শরিফ মাঠে। ইমামতি করেন পীরজাদা মাওলানা মুফতি জাকারিয়া চৌধুরী। এরপর সকাল আটটায় দ্বিতীয় জামাত হয় সাদ্রা হামিদিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা মাঠে, যেখানে ইমামতি করেন মাওলানা মুফতি আরিফ চৌধুরী নিজে।
এছাড়া হাজীগঞ্জ, ফরিদগঞ্জ ও মতলব উত্তরের বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে আরও কয়েকটি জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়।
চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা, অলিপুর, বলাখাল, জাকনী, প্রতাপপুর, মনিহার, ফরিদগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীপুর, গল্লাক, কাইতাড়া, বদরপুর, পাইকপাড়া, নূরপুর, মতলব উত্তরের সাতানী, মোহাম্মদপুর, বেলতলী, কচুয়া ও শাহরাস্তির কয়েকটি গ্রামে আজ সকাল থেকেই উৎসবের আমেজ। ভোর থেকেই মুসল্লিরা নতুন জামা পরে ঈদগাহের দিকে ছুটেছেন। অনেক এলাকায় কোরবানিও ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
এই আগাম ঈদ উদযাপন শুধুমাত্র একদিন এগিয়ে পালন করার প্রবণতা নয়; এটি একটি ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গির ধারাবাহিক চর্চা। সাদ্রা দরবার শরিফের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা ইসহাক (রহ.) ১৯২৮ সালে সৌদি আরবের চাঁদ দেখার ভিত্তিতে ঈদ উদযাপনের এই পন্থা শুরু করেন। এরপর থেকে তার অনুসারীরা এই ধারা মেনে চলছেন।
মুফতি আরিফ চৌধুরী বলেন, “আমাদের অনুসারীরা শুধু চাঁদপুর নয়, দেশের আরও অনেক জেলার গ্রামেও একই সঙ্গে ঈদ পালন করেন। এর মধ্যে কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রাম এবং বরিশালের কিছু এলাকায়ও একই ধারায় ঈদ উদযাপন হচ্ছে।”
এদিন ঈদের জামাত শেষে গ্রামে গ্রামে কোরবানির পশু জবাই শুরু হয়। স্থানীয়দের অনেকেই আগেই গরু, ছাগল কিনে রেখেছিলেন। ঈদের নামাজ শেষে কোরবানির মাধ্যমে দিনের মূল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন তারা।
এছাড়া সাদ্রা দরবার শরিফের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দরিদ্র পরিবারকে কোরবানির মাংস পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তুতিও নেয়া হয়েছে।
দেশের প্রধান ধর্মীয় উৎসবগুলোর একাধিক তারিখে উদযাপন নিয়ে নানা বিতর্ক থাকলেও, চাঁদপুরের এই আগাম ঈদ উদযাপন একটি নির্দিষ্ট বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্ব করে। এতে বিভক্তির চেয়ে ধর্মীয় চর্চার বহুমাত্রিকতা প্রকাশ পায়।
জাতীয় ঈদের একদিন আগেই ঈদ পালন করায় এসব গ্রামের বাসিন্দারা সরকারি ছুটি ও কর্মজীবনের নানা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। তবুও তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় মূল্যবোধই।