মঙ্গলবার, আগস্ট ১৮, ২০২৬

‘মুজিব,তাজউদ্দিনদের মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি বাতিল হয়নি’-ফেইক নিউজ বললেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা ফারুকী

  • নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • ২০২৫-০৬-০৪ ১১:২৩:০০
ছবি সংগৃহিত

ঢাকা, ৪ জুন ২০২৫
মুক্তিযুদ্ধের স্থপতি ও ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকারের সদস্যদের মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি বাতিল করা হয়েছে-এমন সংবাদকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।
বুধবার (৪ জুন) দুপুরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, “শেখ মুজিবুর রহমান, তাজউদ্দিন আহমদসহ মুক্তিযুদ্ধের নেতাদের মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট বাতিল-এটা ফেইক নিউজ। নতুন অধ্যাদেশে মুজিবনগর সরকারের সব সদস্যকে মুক্তিযোদ্ধার স্পষ্ট স্বীকৃতি দেয়া আছে।”
সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি অনলাইন পোর্টালে এমন দাবি করা হয় যে, নতুনভাবে যাচাই-বাছাইয়ের ফলে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বিজয়ী চার শতাধিক রাজনীতিবিদের মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি বাতিল করা হয়েছে।
এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাজউদ্দিন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলামসহ স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতাদের নামও রয়েছে বলে দাবি করা হয়।
এই গুজব দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
ফারুকী তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেন: “মুজিবনগর সরকারের কোনো সদস্যের মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট বাতিল হয়নি। এটি একটি মিসলিডিং সংবাদ। বরং নতুন অধ্যাদেশে স্পষ্টভাবে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পুনরায় সংজ্ঞায়িত ও সংরক্ষিত হয়েছে।”
১৯৭১ সালে গঠিত মুজিবনগর সরকার ছিল বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার। এই সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান (যদিও তখন পাকিস্তানের কারাগারে), প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামসহ আরও বহু নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি।
তারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক রূপরেখা দিয়েছিলেন।
তাদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি কোনো আমলাতান্ত্রিক কাগজপত্রের বিষয় নয়-এটি বাংলাদেশের অস্তিত্ব ও ইতিহাসের অংশ।
ফারুকীর এই মন্তব্য এমন সময় এল, যখন মুক্তিযুদ্ধ ও ইতিহাস নিয়ে ডিজিটাল মাধ্যমে ভুল তথ্য ও গুজবের প্রবণতা বেড়েছে।
তিনি লেখেন, “আমাদের সবাইকে ঐতিহাসিক সত্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখতে হবে এবং যে কোনো ফেইক নিউজ যাচাই না করে বিশ্বাস করা থেকে বিরত থাকতে হবে।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন সংবেদনশীল ইস্যুতে যাচাই-বাছাই ছাড়া সংবাদ পরিবেশন গণমানসে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।
একজন ইতিহাসবিদ বলেন, “মুজিব, তাজউদ্দিন বা সৈয়দ নজরুলদের মুক্তিযোদ্ধা না ভাবার কোনো সুযোগ নেই। এটি কেবল বিভ্রান্তি নয়, বরং জাতিকে ইতিহাসবিচ্যুত করার একটি প্রচ্ছন্ন অপচেষ্টা।”
বর্তমানে যে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া চলছে, তার আওতায় মূলত নতুনভাবে আবেদিত নাম বা বিতর্কিত তালিকাভুক্তদের যাচাই করা হচ্ছে।
স্বীকৃত ও ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত ব্যক্তিদের স্বীকৃতি বাতিলের প্রশ্নই ওঠে না, বলছে মন্ত্রণালয় সূত্র।

সংক্ষেপে বললে -গুজবের এই যুগে সত্য ও ইতিহাস রক্ষার দায়িত্ব সবাইকে নিতে হবে। ফারুকীর এই অবস্থান শুধু সরকারপক্ষের বক্তব্য নয়, একটি প্রজন্মের পক্ষ থেকে ইতিহাসের পক্ষে দাঁড়ানোর ঘোষণা।

 


এ জাতীয় আরো খবর