সোমবার, ফেব্রুয়ারী ১৬, ২০২৬

সংযত ব্যয়ে বড় পরিকল্পনা: আসছে ২.৩০ লাখ কোটি টাকার এডিপি

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৫-০৫-১৮ ১৮:২০:৪০
ছবি সংগৃহিত

ঢাকা | ১৮ মে ২০২৫
আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার চূড়ান্ত করেছে পরিকল্পনা কমিশন। এবার উন্নয়ন বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা, যা আগের বছরের সংশোধিত এডিপির চেয়ে ১৪ হাজার কোটি টাকা বেশি হলেও মূল এডিপির চেয়ে ৩৫ হাজার কোটি টাকা কম। সরকারের ব্যয়সংযমী নীতির অংশ হিসেবেই এডিপির কাঠামো এভাবে সংযত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিকল্পনা বিভাগ।
রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে এই বাজেট চূড়ান্ত অনুমোদন দেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৈঠক শেষে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

অগ্রাধিকার খাতে ৭০ শতাংশ বরাদ্দ
চূড়ান্তকৃত এডিপি অনুযায়ী, মোট ১,১৪২টি প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২ লাখ ১৫ হাজার ৫১৪ কোটি টাকা। বরাদ্দের প্রায় ৭০ শতাংশই বরাবরের মতো অগ্রাধিকার পাঁচটি খাতে দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে পরিবহন ও যোগাযোগ খাত পেয়েছে সর্বোচ্চ ৫৮ হাজার ৯৭৩ কোটি টাকা-যা মোট এডিপির ২৫.৬৪ শতাংশ।
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বরাদ্দ ৩২ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা (১৪.০৮%), তৃতীয় অবস্থানে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ২৮ হাজার ৫৫৭ কোটি (১২.৪২%)। এছাড়া গৃহায়ন ও কমিউনিটি সুবিধা খাতে ২২ হাজার ৭৭৬ কোটি (৯.৯০%) এবং স্বাস্থ্য খাতে ১৮ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা (৭.৮৯%) বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

কোন খাতে কত বরাদ্দ?
এডিপির বিস্তারিত বিশ্লেষণে দেখা যায়-
স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন: ১৩,৪৭২ কোটি
কৃষি: ১০,৭৯৫ কোটি
পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও পানি সম্পদ: ১০,৬৪১ কোটি
শিল্প ও অর্থনৈতিক সেবা: ৫,০৩৮ কোটি
বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি: ৩,৮৯৪ কোটি
ধর্ম, সংস্কৃতি ও বিনোদন: ৩,৬৭৫ কোটি
জনশৃঙ্খলা ও সুরক্ষা: ২,৭৭৭ কোটি
সামাজিক সুরক্ষা: ২,০১৮ কোটি
সাধারণ সরকারি সেবা: ১,৮৭৭ কোটি
প্রতিরক্ষা খাত: ৪৭৫ কোটি টাকা।

অর্থায়নের কাঠামো: বিদেশি ঋণ কমছে, স্বনির্ভরতায় জোর
চলতি অর্থবছরের মূল এডিপিতে যেখানে সরকারের অর্থায়ন ছিল ১ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা, সেখানে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা। একইভাবে বিদেশি ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ১৪ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৬ হাজার কোটি টাকা।
এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, “দেশীয় সম্পদ আহরণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে উন্নয়নকে এগিয়ে নেওয়ার কৌশলই এই বরাদ্দ কাঠামোর মূল ভিত্তি।”

চাহিদা অনেক, বাস্তবতা কঠিন
চলতি অর্থবছরে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো যে মোট ২ লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকার চাহিদা দিয়েছিল, তার তুলনায় চূড়ান্ত বরাদ্দ অনেকটাই কম। তবে পরিকল্পনা কমিশন বলছে, “অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে, কার্যকর প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দিয়েই এবারের বাজেট সাজানো হয়েছে।”

মেগা থেকে কার্যকর উন্নয়নে মোড় ঘোরা?
অতীতের তুলনায় এবারের এডিপি বরাদ্দ কাঠামো কিছুটা ব্যতিক্রম। মেগা প্রকল্প নির্ভরতা কিছুটা কমিয়ে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও স্থানীয় উন্নয়নকে তুলনামূলকভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এটি একটি "বাস্তববাদী ও জনমুখী এডিপি", তবে তার বাস্তবায়ন নির্ভর করবে প্রকল্প তদারকি ও সময়মতো অর্থছাড়ের দক্ষতার উপর।

 


এ জাতীয় আরো খবর