সিংহাসন সাজিয়েছিলাম
আলোয় আলোয় ভরিয়ে রেখেছিলাম চোখ
হেসে গেয়ে তোমাকে অভ্যর্থনা জানিয়ে
বলেছিলাম, মহারাজের জয় হোক!
গণতন্ত্রের প্রদীপ জ্বেলে তোমায় বরণ করেছিলাম…
পাহাড় থেকে নদী
নদী থেকে রাস্তা
ফুটপাত থেকে খিদে
তোমায় ভোগ করতে দিইনি!
গুরু মহাশয় রাজপুত্রকে ডেকে বললেন,
বাবা এক ঘটি জল এনে দাও পায়ে বড় ধূলো…
রাজা হাসলেন।
ছাত্র আরো প্রচণ্ড হেসে লুটোপুটি
তারপর ক্রুদ্ধ হল।
জল আনবো আমি? এত স্পর্ধা আপনার!
রাজা বললেন, ওটা ধূলো নয় মাস্টারমশাই…
ভালো করে দেখুন,
আমার আপনাকে দেওয়া উপহার…
রক্ত! রক্ত! ওটা রক্ত!
গুরু মহাশয়ের চোখে জল।
চিবুক, বুক গড়িয়ে পায়ে নামছে।
পা ধুয়ে এগিয়ে যাচ্ছে রক্ত
রাজামশাইয়ের উঠোন, বারান্দা, ঘর, পুত্র, কন্যা…
পুত্রটি ড্রাগে আসক্ত, কন্যার ঠোঁটে ধূম পোড়া কালশিটে…
তাঁর পুত্রের নাম দুর্ধোধন, দুঃশাসন…
গোড়া থেকে শিক্ষা উপড়ে পড়ছে!
শাখায় পাতায় দূর্ভিক্ষ
রাজামশাই সাম্রাজ্য বাড়াচ্ছেন…
মূর্খের পিঠে চড়ে এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত
আমার! আমার! আমার বলে চিৎকার করছেন!
না না এ গল্প কোথাও লেখা নেই।
আমি তোমায় এমনি শোনালাম।
আমার তো অফুরন্ত সময়…
এই তো হুইলচেয়ারে বসে বসে পায়ের রক্ত বুকে
বাঁধছি…
আমার সামনে ভবিষ্যত স্পষ্ট হয়ে উঠছে!
থিকথিক করছে মূর্খ! অশিক্ষিত, অজ্ঞানী…
ভেবো না রাজামশাই,
তোমার বিশাল রাজত্ব বাড়তে বাড়তে
বিস্ফোরণ হওয়ার আগেই আমি আমার পায়ের সব রক্ত বুকে বেঁধে ফেলবো!
তারপর মাস্টারদা হয়ে উঠে দাঁড়াবো আমি…
গড়ে তুলবো প্রীতিলতা, ক্ষুদিরাম, সুভাষ…
কালস্রোতে সব ভেসে যায়…
ইতিহাস হয়ে যায় সব রাজা, সব রাজত্ব, সব অট্টহাসি…