মঙ্গলবার, আগস্ট ১৮, ২০২৬

বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে ৪৯ সংগঠনের ‘মৈত্রীযাত্রা’ শুক্রবার

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৫-০৫-১৬ ০১:৩৮:৫৮
ছবি সংগৃহিত

বাংলাদেশে নারী আন্দোলনের ধারায় এক নতুন সংহতির বার্তা নিয়ে আসছে ‘নারীর ডাকে মৈত্রীযাত্রা’ কর্মসূচি। শুক্রবার (১৬ মে) বিকেল ৩টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে, সংসদ ভবনের সামনে এই কর্মসূচির আয়োজন করেছে দেশের ৪৯টি প্রগতিশীল নারী, শ্রমিক, ছাত্র, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন।
এই কর্মসূচির ঘোষণা এসেছে বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে। সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নারী মুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি সীমা দত্ত। তার ভাষায়, “যখন নারীর অংশগ্রহণকে আন্দোলনের ইতিহাস থেকে মুছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে, তখন এই কর্মসূচি নারী রাজনীতির পুনরুত্থান ও সম্মিলিত প্রতিবাদের এক মাইলফলক।”
‘মৈত্রীযাত্রা’ কর্মসূচির মূল সুর-“বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে নারীকে ঐক্যবদ্ধ করা”। সংবাদ সম্মেলনে যেসব দাবির কথা তুলে ধরা হয়, তার মধ্যে রয়েছে:
উত্তরাধিকার সম্পত্তিতে নারীর সমান হিস্যা নিশ্চিত
সমশ্রমে সমমজুরি অর্জনের নীতিগত অঙ্গীকার
পরিবার, কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ
কৃষি ও মৎস্য খাতে নারীর শ্রমের স্বীকৃতি
পাহাড়ে জাতিগত নিপীড়নের অবসান
যৌনকর্মীদের সামাজিক নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষা
বাল্যবিবাহ, যৌতুক ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা

সীমা দত্ত বলেন, “নারীমুক্তি বিচ্ছিন্ন কোনো সামাজিক প্রশ্ন নয়-এটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত। সেই মুক্তির লড়াইয়ে নারী তার প্রাপ্য বুঝে নেবে।”
সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক কিছু আলোচিত ঘটনার উল্লেখ করে সীমা দত্ত বলেন, “চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ হাসিনা হলে হামলা, শাহবাগে শিক্ষার্থীর হয়রানি, লালমাটিয়ায় দুই নারী ধূমপায়ীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া-সবই দেখায়, রাষ্ট্রীয় নির্লিপ্ততা কিভাবে সহিংসতাকে প্রশ্রয় দিচ্ছে।”
পার্বত্য চট্টগ্রামে খিয়াং ও বম নারীদের ওপর সহিংসতা, চিংমা খিয়াং নামের এক পাহাড়ি গৃহবধূকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় এখনো অপরাধীর ধরা না পড়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের সুপারিশের বিরোধিতায় হেফাজতে ইসলামসহ ধর্মীয় গোষ্ঠীর বিদ্বেষমূলক প্রচারণারও কঠোর প্রতিবাদ জানানো হয়। বক্তারা বলেন, “ধর্ম ও নারীকে মুখোমুখি দাঁড় করানো এই রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই দীর্ঘদিনের।”
সীমা দত্ত আরও বলেন, “গাজীপুরের টিএনজেড গ্রুপের শত শত নারী শ্রমিক আজও মজুরি না পেয়ে অনিশ্চয়তায়। যৌনকর্মীদের ওপর হামলা হলেও রাষ্ট্র তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ। রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও পুঁজিবাদী নীতির ফলে নারীর প্রতি বঞ্চনা এখন সর্বব্যাপী।”
এই কর্মসূচি কেবল একটি প্রতিবাদ নয়-এটি রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার নতুন রূপরেখা। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গার্মেন্টস শ্রমিক নেত্রী মোশরেফা মিশু, জলি তালুকদার, মারজিয়া প্রভা, ছাত্র ইউনিয়নের অর্ণি আনজুমসহ অর্ধশতাধিক সংগঠনের প্রতিনিধি।
সবাইকে কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সীমা দত্ত বলেন, “এই আন্দোলন শুধু নারীর নয়-এটি শোষণের বিরুদ্ধে সকলের সংগ্রাম।”

 


এ জাতীয় আরো খবর