সোমবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬

স্বাস্থ্যসেবায় ‘মনোভাবের বিপ্লব’ চান ড. ইউনূস: সিভিল সার্জনদের ঐতিহাসিক সম্মেলনে নতুন দিগন্তের সূচনা

  • বিশেষ প্রতিনিধি
  • ২০২৫-০৫-১২ ১৩:০৬:১৭
ছবি সংগৃহিত

ঢাকা, ১২ মে -বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আয়োজিত সিভিল সার্জন সম্মেলনে চিকিৎসা খাতের ভবিষ্যৎ দর্শন স্পষ্ট করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, উন্নয়নের চাবিকাঠি শুধু অবকাঠামো নয়, বরং সেটি চিকিৎসকদের মানসিক পরিবর্তনে নিহিত।তিনি বলেন,“মানসিকতা বদলালেই ২৫ শতাংশ স্বাস্থ্যসেবা উন্নত হবে”।

সোমবার ঢাকায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে ‘সিভিল সার্জন সম্মেলন ২০২৫’-এর উদ্বোধনী বক্তব্যে ড. ইউনূস বলেন, “যতটুকু যন্ত্রপাতি বা সম্পদই থাকুক, যদি মানসিকভাবে বদলে যাই, তাহলে স্বাস্থ্যসেবায় ২৫ শতাংশ উন্নতি হবে নিশ্চিতভাবে।”

প্রথমবারের মতো জাতীয় পর্যায়ে সিভিল সার্জনদের সম্মেলন
দেশের ৬৪ জেলার সিভিল সার্জনদের অংশগ্রহণে শুরু হওয়া এই দুই দিনব্যাপী সম্মেলন স্বাস্থ্যখাতে বিকেন্দ্রীকরণ ও আন্তঃসম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্য নিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এটি শুধু একটি প্রশাসনিক আয়োজন নয়, বরং একটি দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের প্রতীক-এমনটাই প্রতীয়মান হচ্ছে ইউনূসের বক্তব্যে।

‘নতুন মানসিকতা’র ঘোষণা
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আজকের এই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে আমরা নতুন মানসিকতার উন্মোচন করছি। এটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের নতুন করে পথচলার ঘোষণা।”
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সম্মেলন সিভিল সার্জনদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ, সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও সমাধানের ক্ষেত্র তৈরি করবে। সিস্টেমের দূরত্ব ভেঙে দিয়ে মানবিক নেতৃত্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

স্বাস্থ্য উপদেষ্টার বার্তা: জেলা পর্যায়ে দায়িত্ববোধ বাড়াতে হবে
অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বলেন, “প্রান্তিক মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনকারী হচ্ছেন সিভিল সার্জনরা। এই সম্মেলন যেন কাগুজে আদান-প্রদানে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবিক স্বাস্থ্যসেবার রূপান্তরে ভূমিকা রাখে।”

নীরব বিপ্লবের ডাক
বিশ্লেষকদের মতে, ড. ইউনূসের এই আহ্বান স্বাস্থ্য খাতে একটি ‘নীরব বিপ্লব’-এর সূচনা হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে প্রযুক্তিগত ঘাটতি, বাজেট সংকট ও মানবসম্পদ ঘাটতির মধ্যেও স্বাস্থ্যসেবার গুণগত মান উন্নয়নে মনোভাবের ভূমিকা এতো স্পষ্টভাবে কোনো উচ্চপর্যায়ের নেতৃত্ব থেকে উঠে আসেনি।
একজন জ্যেষ্ঠ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, “অধিকাংশ সময় আমরা সফটওয়্যার আর যন্ত্রপাতি নিয়ে ভাবি। কিন্তু মানবিক নেতৃত্ব আর মানসিক প্রস্তুতি যে উন্নয়নের নিয়ামক-এটা একেবারে নতুন বার্তা।”


এ জাতীয় আরো খবর