বুধবার, আগস্ট ২৬, ২০২৬

দালালের খপ্পরে জনশক্তি :প্রতারক চক্রের প্রতারণায় নিঃস্ব হচ্ছে প্রবাসগামী বাংলাদেশীরা

  • সরদার কালাম
  • ২০২৫-০৫-০৮ ০১:২৩:২২

দেশে বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনের দ্বিতীয় বৃহত্তম খাত হলো বিদেশে জনশক্তি রপ্তানি।জাতীয় অর্থনীতির এই গুরুত্বপূর্ণ খাতটি পরিচালনার ক্ষেত্রে_
বিভিন্ন সময়ে নানা রকমের গুরুতর অভিযোগ ওঠেলেও সেগুলোর সুরাহা হয় না।যার খেসারত দিতে হয় ভাগ্যান্বেষী দেশের সাধারণ গরিব মধ্যবিত্ত পরিবারের লাখ লাখ তরুণকে।পদে পদে প্রতারিত হতে হয় তাদের।
বিদেশ গমনেচ্ছু এই তরুণদের ভোগান্তি ও প্রতারণা শুরু হয় দেশ থেকে আর তা চলমান থাকে কাঙ্খিত দেশে পৌঁছানোর পরও।
সস্তির জীবন তাদের ভাগ্যে জোটে না।প্রতি বছর এনিয়ে মোটামুটি দেশের গনমাধ্যমে ফলাও করে প্রতিবেদন প্রকাশ হলেও উপর মহলে খুব একটা টনক নড়তে দেখা যায় না, চলমান থাকে প্রতারক চক্রের প্রতারণা বানিজ্য। নিঃস্ব হয় প্রবাসগামী সাধারণ মানুষ,তাদের স্বপ্ন আর জীবন হয়ে যায় ধংস। 
গনমাধ্যমে এক প্রতিবেদন বলছে, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নামে হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত আলোচিত ব্যবসায়ী ও সাবেক বায়রা মহাসচিব রুহুল আমিন স্বপন।
মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নামে মেডিক্যাল বাণিজ্যের আড়ালে সাধারণ শ্রমিকদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।কর্মী পাঠানোর নামে প্রায় আট লাখ কর্মীর কাছ থেকে মেডিক্যাল ফি বাবদ ৮০০কোটির বেশিটাকা লোপাট করে স্বপনোতাঁর সিন্ডিকেট
। অনুসন্ধানে উঠে আসে,এঅর্থ হাতিয়ে নিতে‘মীম মেডিক্যাল’ ও ‘ক্যাথারসিস মেডিক্যাল’নামের দুটি প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করা হয়েছে।প্রতিবেদনে আরো বলা হচ্ছে, এই সিন্ডিকেটের ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির অন্যতম ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গেই মীম মেডিক্যাল ও ক্যাথারসিস মেডিক্যালের সরাসরি সংযোগ রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানগুলো রুহুল আমিন স্বপনের ক্যাথারসিস গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান।জনশক্তি রপ্তানি থেকে অর্জিত ব্যাবসায়িক আয়ের তথ্য গোপন করে রেমিট্যান্স হিসেবে তা দেখিয়ে কর ফাঁকির অভিযোগও উঠেছে রুহুল আমিন স্বপনের বিরুদ্ধে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর নামে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর দুর্বলতাকে ব্যবহার করে লাভবান হয়েছে।এখন সমন্বিত তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং এই চক্রে জড়িতদের কঠোর আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।শুধু মালয়েশিয়া নয়, বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়াসহ ইউরোপ-মধ্যপ্রাচ্যের যেসবদেশে জনশক্তি রপ্তানি এবং প্রবাসগামী বাংলাদেশীদের পদে পদে ভোগান্তি পোহাতে হয় তা লাঘবে প্রতারক দালাল চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সময়ের দাবি।
এনিয়ে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট ভেঙে নতুনকরে শ্রমবাজার উন্মুক্তকরার দাবিতে গেলসোম্বার মানববন্ধন করেছে ঢাকার রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকরা।
সেখানে সংবাদ মাধ্যমে দেয়া বক্তব্যে তারা জানান ,সাবেক সরকারের সময় তৎকালীন মন্ত্রী, এমপি ও প্রভাবশালী নেতাদের প্রশ্রয়ে পলাতক রুহুল আমিন স্বপনের নেতৃত্বে ওই সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে।বর্তমানে বিদেশে বসেই তাঁরা ওই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন বলেও মানববন্ধনে জানান রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকরা।
প্রশ্ন উঠেছে ,যাঁরা জমিজমা বিক্রি করে কিংবা ধার্কর্জ করে এজেন্সির চাহিদামাফিক টাকা দিয়েও বিদেশে যেতেপারেনি
,যাদের বছরের পর মাসের পর মাস ভোগান্তির শিকার হতে হয় তাঁদের কী হবে?
এক্ষেত্রে সর্কারকে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে,যাতেতারা টাকা ফেরত দেয়।এছাড়া জনশক্তি রপ্তানিতে দেশের বাজারে প্রবাসগামীদের মাসেরপর মাস বছরের পর বছর ভোগান্তির শিকার না হতে হয় সেদিক থেকে প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।


এ জাতীয় আরো খবর