চাঁপাইনবাবঞ্জের চিকিৎসক সংগঠনগুলোর সংবাদ সম্মেলন
- জাকির হোসেন পিংকু
-
২০২৫-০৫-০৬ ২২:০০:০৬
- Print
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের অনিয়ম-দূর্নীতি তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। গত ৩০ এপ্রিল চিকিৎসক ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের মধ্যে সৃষ্ট বাক-বিতন্ডার ব্যাপারে ছাত্রদের নিন্দা জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। সোমবার (৫মে) দুপুরে হাসপাতাল সম্মেলন কক্ষে চিকিৎসক সংগঠন ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এবং ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ) যৌথ সংবাদ সম্মেলন করে।
সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ড্যাবের জেলা সভাপতি ডা.ময়েজ উদ্দীন বলেন, হাসপাতাল তত্বাবধায়কের অফিস কক্ষে অশালীূন,অভদ্র ও আক্রমনাত্বক আচরণ করেছে ছাত্ররা। কোন প্রটোকল ছাড়াই হাসপাতালের গোপনীয় দলিল চেয়েছে। তাঁরা আইন অনুযায়ী কাজ করতে অস্বীকৃতি জানায়। তারা হাসপাতালের কনসালটেন্ট ডা.ইসমাইল হোসেনের সাথে তর্ক ও অসদাচরণ করে হুমকি দিয়েছে। তাদের দূর্বৃত্তস্বরপ আচরণের নিন্দা জানায় চিকিৎসকরা। ওই ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন চিকিৎসকরা। ডা.ময়েজ আরও বলেন ৫ আগষ্টের চেতনাকে আমরা বুকে ধারণ করি এবং এই অর্জনে চিকিৎসক সমাজের বলিষ্ঠ ভূমিকাকে স্মরণ করি। কেউ যাতে আন্দোলনের অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে না পারে সে ব্যাপারে সকলকে সচেতন থাকতে হবে। তবে এর মধ্যেই ওই ঘটনা নিয়ে ফেইসবুকে চিকিৎসক সমাজকে কুরুচিকরভাবে আক্রমণ করা হয়েছে। চরিত্রহরণের চেষ্টা করা হচ্ছে যা নিন্দনীয় ও ঘৃণিত। এসব চিকিৎসক সমাজের দৃস্টিগোচর হয়েছে। এনডিএফ সভাপতি ডা.এ.কে মহিউদ্দীন বলেন ছাত্রদের আচরনই তাদের পরিচয়কে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
হাসপাতাল তত্বাবধায়ক ঘটনার প্রেক্ষপট তুলে ধরে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।তিনি বলেন,ঘটনাটি বিভাগীয় উর্ধতণ কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত পদক্ষেপ নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তিনি আরও বলেন, হাসপাতাল নিয়ে কিছু অভিযোগ ও সুপারিশ নিয়ে ছাত্ররা কয়েকবার তাঁর নিকট এসেছেন।গত রোববারও(৪ এপ্রিল) এসেছেন। সেগুলো নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে ৫ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। তারা ৩ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিবে। কিন্তু ওইদিন তাদের ওই ধরণের আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। সে দিন তাদের অন্য কোন উদ্দেশ্য ছিল কিনা তা নিশ্চিত নয় বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, ২৫০ শয্যার হাসপাতালে ৫০০ পর্যন্ত রোগি থাকে। প্রতিদিন বর্হিবিভাগে ২ হাজার রোগিকে চিকিৎসা দেয়া হয় । তবে কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনেই রেফার্ড করা হয়। হাসপাতাল সময়ের বাইরে চিকিৎসকরা ক্লিনিকে কাজ করতে পারেন। অথচ এমনভাবে বলা হচ্ছে যেন হাসপাতালে কোন কাজই হয় না।
ডা.ইসমাইল বলেন,তাঁর সাথে ছাত্রদের কোন পূর্ব শত্রæতা নেই। তিনি নিজ কাজে তত্বাবধায়কের কক্ষে ঢুকে ছাত্রদের সংযত আচরণ করতে বলায় আক্রমণের শিকার হন। তাঁকে দালাল বলা হয়।
জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব সাব্বির আহমেদ বলেন,তাঁরা সাংগঠনিক পরিচয় দিয়েই হাসপাতালের অনিয়ম দূর্নীতি তুলে ধরেন। সেবা নিশ্চিত ও উন্নয়নের কথা বলেন। তাদের অন্য কোন উদ্দেশ্যে ছিল না। অথচ তাদের চাঁদাবাজ, দূর্বত্ত বলা হয়েছে। সম্মেলনে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা.আব্দুস সামাদ সহ চিকিৎসক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেøখ্য, গত ৩০ এপ্রিল হাসপাতালের ওই ঘটনার ভিডিও এবং পরে তত্বাবধায়কের একটি অডিও ভাইরাল হয়। টক অব দ্য টাউন হয়। ঘটনাটি নিয়ে গত রোববার সংবাদ সম্মেলন করে ছাত্ররা