সোমবার, আগস্ট ১৭, ২০২৬

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আকস্মিক বিদ্যুৎ বিপর্যয়, রাতভর মেরামতের চেষ্টায় বিদ্যুৎ বিভাগ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৫-০৪-২৭ ০০:৪৯:২৭

খুলনা, যশোর, বরিশাল ও ফরিদপুরে শনিবার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় আকস্মিক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে শুরু হওয়া এই বিভ্রাটে একাধিক জেলা মুহূর্তেই অন্ধকারে ডুবে যায়। ঘটনার পর বিদ্যুৎ বিভাগের বিভিন্ন সংস্থা রাতভর পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালায়।
পাওয়ার গ্রিড অব বাংলাদেশ (পিজিবি) ও ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) সূত্রে জানা গেছে, আরপিসিএল-নরিনকো ইন্টারন্যাশনাল পাওয়ার প্ল্যান্টের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের জেরে জাতীয় গ্রিডে চাপ সৃষ্টি হয়। ফলে কেন্দ্রটি হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যায় এবং তার প্রভাব পড়ে চার জেলার বিদ্যুৎ সরবরাহে।
বিদ্যুৎ বিভাগের পরিচালক (জনসংযোগ) শামীম হাসান জানিয়েছেন, সন্ধ্যার পর থেকেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লোড পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলে। অনেক এলাকায় সাড়ে ৭টার পর বিদ্যুৎ সরবরাহ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে। রাতের মধ্যেই অধিকাংশ অঞ্চলে আলো ফেরানোর লক্ষ্য ছিল।
ওজোপাডিকোর নির্বাহী পরিচালক আব্দুল মজিদ বলেন, খুলনা, যশোর, বরিশাল ও ফরিদপুরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। লোড স্বাভাবিক করতে ধাপে ধাপে কাজ চলছিল। বিশেষ করে বরিশাল ও ফরিদপুরে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধারে দেরি হয়।
এদিকে বরিশাল নগরী ও আশপাশের ১০ উপজেলায় সন্ধ্যা ৬টার দিক থেকে একযোগে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী আক্তারুজ্জামান পলাশ জানান, প্রায় ৮ লাখেরও বেশি গ্রাহক এ সময় সরাসরি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েন। তবে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার পর থেকে বিদ্যুৎ ফেরানোর কাজ শুরু হয়।
যশোর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী অমূল্য কুমার সরকার জানান, যশোর, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং পটুয়াখালীতেও একই ধরনের সমস্যা হয়। কীভাবে এই বিপর্যয় ঘটলো, তার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে বলে জানান তিনি।
পাওয়ার গ্রিড অব বাংলাদেশের কর্মকর্তারা বলছেন, অতিরিক্ত উৎপাদন ও গ্রিডের ভারসাম্যহীনতার কারণেই এই বিপর্যয়। দ্রুত মেরামতের মাধ্যমে পুরো অঞ্চলে পুনরায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে রাতভর কাজ করেন প্রকৌশলী ও কর্মীরা।
এ ঘটনায় বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

 


এ জাতীয় আরো খবর