মঙ্গলবার, জুলাই ২৮, ২০২৬

ফাইনাল স্বপ্নে ভাঙন, ভ্যাঙ্কুভারে মেসিদের থামিয়ে দিল বাস্তবতা

  • একান্ত প্রতিবেদক
  • ২০২৫-০৪-২৫ ১০:৫৯:১৭
ছবি সংগৃহিত

কানাডার বিসি প্লেস স্টেডিয়াম ছিল উৎসবমুখর। গ্যালারিতে জায়গা মিলছিল না এক টুকরো দাঁড়ানোর। প্রথমবারের মতো দেশটিতে পা রাখা লিওনেল মেসিকে এক নজর দেখার জন্য কানাডীয় ফুটবলপ্রেমীরা অপেক্ষায় ছিলেন দীর্ঘ সময়। কিন্তু মাঠে মেসির জাদু দেখা যায়নি, দেখা গেছে ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপসের শৃঙ্খলিত প্রতিরোধ আর তীক্ষ্ণ পাল্টা আক্রমণ।
কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপের সেমিফাইনালের প্রথম লেগে ইন্টার মিয়ামি হেরে বসেছে ২-০ গোলে। মেসি ছিলেন মাঠজুড়ে-শট নিয়েছেন, ফ্রি কিকও পেয়েছেন। কিন্তু প্রতিবারই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভ্যাঙ্কুভারের কঠিন রক্ষণ ও জাপানিজ গোলরক্ষক ইওকি তাকাওকার চমৎকার প্রতিপক্ষ-পড়ার ক্ষমতা।
মিয়ামির ব্যর্থতার গল্প শুরু হয় ম্যাচের ২৪ মিনিটে, যখন ব্রেইন হোয়াইট এক দুর্দান্ত হেডে বল পাঠান জালে। এরপর মেসি ও তাঁর দল ছুটেছেন একের পর এক আক্রমণে, কিন্তু প্রতিবারই ফিরেছেন হতাশ হয়ে। মেসির বেশ কয়েকটি ফ্রি কিক লক্ষ্যের বাইরে চলে যায়, যেগুলো কখনো দর্শকসারিতে, কখনো উপরের জালে।
এই ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত আসে ৮৫ মিনিটে। ভ্যাঙ্কুভারের মিডফিল্ডার সেবাস্তিয়ান ব্রেথলটার, জে নেলসনের পাস থেকে বল নিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় জালে পাঠান। তাতেই ম্যাচের ফলাফল প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়।
ম্যাচ শেষে হতাশায় ডুবে ছিলেন ইন্টার মিয়ামি কোচ হাভিয়ের মাশ্চেরানো। রেফারির একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে সরাসরি বচসায় জড়িয়ে পান হলুদ কার্ড। তার ভাষায়, “এই হারটা শুধু একটা ম্যাচ নয়, আত্মবিশ্বাসেও বড় ধাক্কা।”
তবে সবচেয়ে বড় ধাক্কা মেসিদের অপেক্ষা করছে আগামী সপ্তাহে, ফ্লোরিডার চেজ স্টেডিয়ামে। দ্বিতীয় লেগে অন্তত ৩-০ ব্যবধানে জিততেই হবে তাদের, তবেই মিলবে ফাইনালের টিকিট। সমীকরণ কঠিন হলেও মেসি মানেই অসম্ভবের সাধনা। তবে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে-মেসির জাদু কি ঘরের মাঠে ফিরতে পারবে?
চ্যাম্পিয়ন্স কাপ থেকে বাদ পড়া মানে শুধু একটি শিরোপার স্বপ্নভঙ্গ নয়, বরং মিয়ামির গঠনের ভিতেও বড় এক ধাক্কা। বিশ্বজুড়ে আলোচনায় থাকা এই দলটির সামনে এখন সময় নিজেদের প্রমাণ করার।
মাঠের ৯০ মিনিটের ব্যর্থতা হয়তো একটা রাতের গল্প, কিন্তু মেসিদের জন্য সেই রাতই এখন পরিণত হয়েছে মৌসুম রক্ষার সবচেয়ে বড় পরীক্ষায়।

 


এ জাতীয় আরো খবর