বৃহস্পতিবার, জুন ২৫, ২০২৬

কুয়েট প্রশাসনে রদবদল: উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যকে অপসারণে সরকারের পদক্ষেপ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৫-০৪-২৪ ০০:৪৬:০৫
ফাইল ছবি

খুলনা | ২৪ এপ্রিল ২০২৫
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) প্রশাসনের শীর্ষ দুই পদে বড় ধরনের রদবদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সাম্প্রতিক সময়ের সহিংসতা ও প্রশাসনিক অচলাবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদ ও উপ-উপাচার্যকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
বুধবার দিবাগত রাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “সাম্প্রতিক ঘটনাবলির পর উদ্ভূত সংকট নিরসন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় সচল রাখার স্বার্থে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই সার্চ কমিটি গঠন করে নতুন নিয়োগ দেওয়া হবে।”
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম সচল রাখতে সিনিয়র অধ্যাপকদের মধ্য থেকে একজনকে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হবে।

আন্দোলন ও সংকটের পটভূমি
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি কুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল-যুবদল এবং শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন। পরবর্তীতে ২৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় অনির্দিষ্টকালের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ১৩ এপ্রিল শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। পরে ১৪ এপ্রিলের সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ৩৭ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়।

ভিসি অপসারণের দাবিতে আমরণ অনশন
উপাচার্য অধ্যাপক মাছুদের অপসারণের দাবিতে ২২ এপ্রিল বিকেল থেকে ২৯ জন শিক্ষার্থী আমরণ অনশনে বসেন। অনশনের দ্বিতীয় দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও কুয়েটের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে অবিলম্বে ভিসির অপসারণ দাবি করেন।
শিক্ষা উপদেষ্টা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অনশন ভাঙানোর চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। ভিসি মাছুদ তখন সাংবাদিকদের জানান, "সরকার না সরালে আমি পদ ছাড়বো না।"
শেষ পর্যন্ত, সরকারের পক্ষ থেকেই তাঁর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির প্রক্রিয়া শুরু হলো।

অব্যাহতির তাৎপর্য
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে এ সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থী ও শিক্ষক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। কেউ কেউ এটিকে ‘জনচাপ ও বাস্তবতার স্বীকৃতি’ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বলছেন, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার পূর্বশর্ত।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের সংকটে প্রশাসনের জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই সরকারের এমন পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


এ জাতীয় আরো খবর