কতো রক্ত লাগবে বলো,
লোহিতসাগর, নীলনদ, ফোরাত, ভূমধ্যসাগর দিয়ে যতো স্রোত প্রবাহিত হয়---
সবটাই দিয়ে জলের পরিবর্তে রক্ত নাও;
তবু পিতা, পিতামহীর পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি কেড়ে নিওনা,
লাখেলাখে ঘর হারা মানুষের চোখের ভেতর দিন-রাত খেলা করে;
মাস-মাস, বছর-বছর চোখের সামনে অপেক্ষা করা,
আশার আলো নিয়ে চোখে রক্তজল দেখে!
--পৃথিবীর সব মানুষ বুঝি একদিকে জয়ভাগায়
অপরদিকে পরাজিত, রক্তাক্ত, ক্ষুধার্ত, ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র!
যুগেযুগে মানুষের জানমালের ওপর দিয়েই তবে
নতুন নতুন সভ্যতার আবাদ হয়;
অথচ মাটিহারা মানুষের মাটিতে শুধুই রক্তফসল ফলে,
সেখানে লাগে রক্তবীজ; তারথেকে জন্মনেয় রক্তচারা।
দিনেদিনে বুলেট বারুদ খেয়ে খেয়ে ক্ষুধা ও ক্ষমতার রসায়নের
কুৎসিত রূপায়নে নিজভূমে শরণার্থী হতে হয়।
ওরা বলে, অইদিকে যেওনা,
নিরাপদে শিবিরে, ছাউনিতে, হাসাপাতালে আহত হয়ে থাকো।।
কিন্তু সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় আজ ভীষণ ভয়ংকর দানব, দাজ্জাল!
ঘুমোতে গিয়ে আর ওঠা হয়না এদের ঘুম থেকে।
বেহায়া সংঘরা, চরম লজ্জা পায়;
কারণ কিছু হলেও এদের শরম আছে--
পেছনে যে নিষ্ঠুর, গণহত্যাকারী,
দখলদার আগ্রাসনের ওমওলা সিংহাসনী থাবা বসে আছে।
আগে যাও-বা রাতের আলোয় বের হতো,
এখন সভ্যদুনিয়ার সকলের নাকের ডগা দিয়ে
দানবাগ্রাসী থাবা নিপীড়িত মানুষের শ্বাসপ্রশ্বাসে ওঠানামা করে দিনরাত।
কেউ-ই এদের দমিয়ে দিতে ঐক্যবদ্ধ হয়না,
শুধু রুটি-মাংস, মানচিত্রের অধিকার নিয়ে,
যে যার মতো লড়ে যাচ্ছে।
মনুষ্যত্ব, মানবতা, ধর্ম ---
কোনকিছু এদের মন গলাতে পারে না।
এতোটাই বিবর্তিত প্রজাতি, জাতিগতভাবে জাতিনিধনকারী এরা
বোধহয় ভিন গ্রহের; কিংবা অন্য কোন পৃথিবী থেকে আসা
কোন অসভ্য জানোয়ার।
শিশুদের ইশকুল, পিতামাতা, ভাইবোন, পাড়াপ্রতিবেশি,
খেলার সঙ্গী সব কিছু নস্যাৎ করে দিচ্ছে
ইতিহাসের নিষ্ঠুর নৃশংস, জঘন্য উম্মতেরা!
একটুকরো রুটি হাওয়ায় ভাসতে ভাসতে আসমানে উঠে যায়---
তাকিয়ে থাকে অসংখ্য চোখ;
চিলও যে রুটি ধরতে ব্যর্থ---
কারণ বিশ্বের সে মুরোদ নেই;
মানুষের মিছিলে, মানুষের মনের মধ্যে রাজত্ব করবে।
তবে মহান বিশ্বপ্রতিপালক,
একদিন এসবের হিসাব এই পৃথিবীতে নেবেন।
এই আশায় অন্ততঃ যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিন সহ
সকল নিপীড়িত দেশ অপেক্ষায় আছে।
আর কতো রক্ত নেবে? বলো, হে অসভ্য বর্বর ইনসান,
সময় কিন্তু ফুরিয়ে আসছে তোমাদেরও--
ধরা ধূলিসাৎ হওয়ার আগে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া
বেঁচে থাকা শেষ মানুষটির আর্তনাদ শোনো।
তার অভিশাপ থেকে, নিষ্পাপ শিশুর সর্বহারা চাহনি থেকে
কীভাবে তোমরা রক্ষা পাবে?
আর কতো রক্ত হলে শান্ত হয় এই পৃথিবী?!