বৈশাখে তার জন্ম, পাড়া বৈশাখী নাম রাখে ,
স্বভাব মেয়ের ঠান্ডা তবু সে নামেতেই ডাকে ।
গাঁয়ের পরে এক গাঁ ফেলে ভাই গেছে ইস্কুলে,
ছোট্ট দিদি ভাইয়ের খোঁজে ছুটছে তপ্ত আলে
ছুটছে মেয়ে নগ্ন পায়ে আগুন আগুন মাঠ
সঙ্গী হয়ে জড়িয়ে আছে খসটানো লাল স্কার্ট ।
ঝাঁ ঝাঁ রোদে ঝিমিয়ে গেছে নরম ঝুমকো লতা,
আগুন মাটি পোড়াচ্ছে খুব পায়ের কচি পাতা ।
সে তাপ তাকে থামিয়ে দেবে ,স্বভাব তেমন নয় ,
মায়ের বুকে ব্যথার প্রকোপ,মায়ের বুকে ভয় ।
ভাইটি বাদে 'ছ' জন তারা,সবাই
ভায়ের দিদি,
সেও আজ থাকতো দূরে,ভাঙ্গতোনা
বিয়ে যদি ।
দশ এগারোয় সব দিদিরাই বিদেয় হয়ে গেছে,
আইবুড়ো নাম ঢেকে গেছে সাদা থানের নীচে ,
বাপ মরেছে বছর তিনেক,লেগেছে ভাতে টান,
বৈশাখী তাই খাটিয়ে গতর করছে সমাধান ।
অভাব ওদের শান্তি না দিক দিয়েছে নিরিবিলি,
নাছোড় ব্যথাই হঠাৎ হঠাৎ শোনায় দু চার কলি।
মায়ের পাশে বসে মেয়ে,মিলায় মায়ের শ্বাসে
মা যে কেবল ভাইকে খোঁজে নিঃশ্বাসে প্রশ্বাসে ।
তাই বেচারি তপ্ত পথে রোদের ধারায় ভিজে
কষ্ট বুকে ভায়ের খোঁজে যাচ্ছে ছুটে নিজে ।
হঠাৎ পথে.....
নন্দখুড়ো শুধিয়ে খবর, মাথায় রাখেন হাত ।
শুষ্ক মেয়ের চোখের জলে ভিজতে থাকে মাঠ ।
বৈশাখীরা কষ্ট পেলে ধূমায় আগুন অন্তরে ,
ভরসা ভরা হাত ছোঁয়ালে আষাঢ় নামে চোখ ভরে ।