সন্ধ্যা রায় টলিউডের বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের একজন প্রখ্যাত অভিনেত্রি।
তিনি ১৯৬০ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত রোমান্টিক বাংলা সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রি ছিলেন।
১৯৭৫ সালে রাজেন তরফদার পরিচালিত 'পালঙ্ক' ছায়াছবিতে বিখ্যাত অভিনেতা আনোয়ার হোসেনের বিপরীতে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য তিনি বাংলা চলচ্চিত্রে ইতিহাস হয়ে আছেন।
তিনি সহঅভিনেত্রি হিসেবে প্রথম কাজ করেন তাপস পালের সাথে 'দাদার কীর্তি' ও 'শ্রীমান পৃথ্বীরাজ' সিনেমায়।
সন্ধ্যা রায়ের জন্ম ১১ এপ্রিল ১৯৪১ সালে পশ্চিমবঙ্গের নবদ্বীপে। এর কিছুদিন পর তিনি তাঁর পরিবারের সাথে বাংলাদেশে চলে আসেন। সন্ধ্যা রায়ের পৈতৃক নিবাস যশোর শহরের বেজপাড়াতে।
তাঁর পিতামহ একজন জমিদার ছিলেন। তিনি ৭ বছর বয়সে বাবাকে এবং ৯ বছর বয়সে তাঁর মাকে হারান। তাঁর মা বাবার মৃত্যুর পর তিনি তাঁর মামার কাছে চলে যান।
সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের সাথে 'মামলার ফল' ছিল তাঁর অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র।
তাঁর অসামান্য অভিনয় কৌশলের জন্য তিনি অনায়াসে যে কোনো সিনেমার চরিত্রের সাথে সহজেই খাপ খাওয়াতে পারতেন। তাঁর সমালোচক কর্তৃক প্রসংশিত সিনেমাগুলোর মধ্যে সত্যজিৎ রায়ের 'অশনী সংকেত' এবং তরুণ মজুমদারের 'ঠগিনী' এবং পুরোদস্তুর বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র যেমন 'বাবা তারকনাথ'।
তিনি সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের বিপরীতে রোমান্টিক সিনেমা 'মনিহার' এবং বিশ্বজিতের বিপরীতে রোমান্টিক হিন্দি ছায়াছবি 'মেরি সোনম' ও থ্রিলার সিনেমা কুহেলি'তে অভিনয় করেন।
এই সিনেমায় তারকা ভরপুর একটি দল অভিনয় করে, যেখানে ছায়া দেবী, অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়, শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়, সুমিতা স্যানাল এবং সত্য বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন।
অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রসমুহ - অন্তরীক্ষ, গঙ্গা, মায়ামৃগ, কঠিন মায়া, আরোগ্য, শুভদৃষ্টি, রক্তপলাশ, নব দিগন্ত, ধুপ ছায়া, বন্ধন, পলাতক, ভ্রান্তিবিলাস, আসলি নকলি, সূর্যতপা, এক টুকু বাসা, অন্তরাল, আলোর পিপাশা, প্রস্তর স্বাক্ষর, তিন অধ্যায়, বাঘিনী, অপরিচিত, আরোগ্য নিকেতন, নিমন্ত্রণ, শ্রীমান পৃথ্বীরাজ, অশনি সংকেত, ফুলেশ্বরী, সংসার সীমান্তে, বাবা তারকনাথ, গণদেবতা, দাদার কীর্তি, সংসার থেকে দূরে, মেঘমুক্তি, খেলার পুতুল, পথভোলা, পথ ও প্রাসাদ, নবাব, ছোট বউ প্রভৃতি।
তবে উত্তম কুমারের সাথে 'ঝিন্দের বন্দী' ছাড়াও ১৯৭২ সালে সত্যজিৎ রায়ের 'অশনি সংকেত' ও ১৯৭৫ সালে রাজেন তরফদারের 'পালঙ্ক' চলচ্চিত্র দুটি তাঁকে অমর করে রাখবে চিরকাল সন্দেহ নেই।
সন্ধ্যা রায় রাজনৈতিক জীবনে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ছিলেন।
আজকের এই বিশেষ দিনটিতে 'অশনি সংকেত' এর 'ছুটকি'র জন্য রইল শুভ কামনা।