নমিতা ঘোষ সঙ্গীতশিল্পী এবং শব্দ সৈনিক। রক্তাক্ত একাত্তরের উত্তাল দিনগুলোতে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে সুরের মাধ্যমে তিনি উজ্জীবিত করেছেন রণাঙ্গনের বীর যোদ্ধাদের। যুগিয়েছেন সাহস ও অনুপ্রেরণা।
শিল্পী নমিতা ঘোষ মাত্র ১৪ বছর বয়সে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে প্রথম নারী শিল্পী হিসেবে নিয়মিত সঙ্গীত পরিবেশন করেছেন।
নমিতার মা জষোদা ঘোষ সে সময় রেডিওতে নিয়মিত গান গাইতেন। ঢাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা শুরু হলে ২৭ মার্চ বুড়িগঙ্গা পেরিয়ে কেরাণীগঞ্জ হয়ে কুমিল্লা দিয়ে আখাউড়া সীমান্ত পার হন তাঁরা।
নরসিঙ্গরে শিল্পী আব্দুল জব্বার ও আপেল মাহমুদের সঙ্গে দেখা হয় নমিতার। তখন সেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে ক্যাম্পে গিয়ে গান গেয়ে অনুপ্রেরণা দেওয়ার পরিকল্পনা চলছিল।
আগরতলায় থাকতেই মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্রের কাজে যুক্ত হন নমিতা। পরে সেই প্রামাণ্যচিত্র যুদ্ধের সময় ভারতের বিভিন্ন সিনেমা হলে দেখানো হয়।
মে মাসে মায়ের সঙ্গে আগরতলা থেকে বিমানে করে কলকাতায় পৌঁছান তিনি। পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রথম প্রেস সচিব, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক আমিনুল হক বাদশার উৎসাহে যোগ দেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে।
বাংলাদেশ বেতার এবং টেলিভিশনে নিয়মিত সঙ্গীত পরিবেশন করতেন নমিতা ঘোষ। মাঝে বেশ গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় সাবেক সরকারের আর্থিক সহায়তা পেয়েছিলেন তিনি।
এই দেশের স্বাধীনতার জন্য আরো অনেকের মতো শিল্পী নমিতারও বিশেষ অবদান আছে তাতে রাষ্ট্র কিম্বা সমাজ স্বীকার করুক বা না করুক।
২৬ মার্চ ২০২১ সালে রাজধানীর ধানমন্ডির পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিরদিনের মতো স্তব্ধ হয়ে যায় শিল্পী নমিতার সুরেলা কণ্ঠ। শ্রদ্ধাঞ্জলি।