একদিন আমি মৃত ছিলাম না
আমার স্বরের স্পন্দনে জেগে উঠতো শব্দ
রাত জেগে কবির সাজানো অক্ষরের অনুভূতিকে ছুঁয়েছি
নির্ঘুম সময় পার হয়েছে প্রশংসার অপেক্ষায়,
বহু সকাল, সন্ধ্যা হয়েছে চোখের পলকে
মঞ্চের পর মঞ্চ ছুঁয়ে ছুঁয়ে থেকেছে কবিতা,
কখনও মানুষের কথা
কখনও প্রেম বিরহের আলাপন
কখনও বা প্রতিবাদের শাণিত উচ্চারণ
আমার অবসরের নেশা যাপনকে করে তুলেছিল ব্যস্তময়!
আমি তখন কবিতায় বেঁচে
একঘেঁয়েমির যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়া শব্দে ভেসে
পৌঁছে গেলাম সাহিত্যের আকাশে,
শ্রোতাদের অবিরত হাততালিতে শূন্য মন কানায় কানায় পূর্ণ
ভুলে গিয়েছিলাম অফিস থেকে ফিরে বিশ্রাম নেওয়ার কথা
ভুলে গিয়েছিলাম বাড়তি সময় পেলে ঘুরে বেড়ানোর কথা
ভুলে গিয়েছিলাম সংসারের পুঙ্খানুপু খেয়াল রাখার কথা
ভুলে গিয়েছিলাম আরও কত কি,
কবি বলেছিলেন আমি পূর্ণতা দিতে জানি
আত্মতুষ্টিতে শিল্পের মা হয়েছিলাম
কবে?কোথায়? কিভাবে? তা জানি না
নামের আগে বসে গিয়েছিলো বাচিক শিল্পী উপাধি,
একদিন ব্যস্ততার পারদ তুঙ্গে উঠলো
শত কবির শত কবিতায় কণ্ঠদান
গল্পটা এখানেই শেষ নয়
তখনও জীবিত আমি
দীর্ঘক্ষণ কবিতা পাঠে কন্ঠ কেঁপে উঠতেই
সুনামি শুরু শ্রোতার হৃদয়ে,
চুলচেরা বিশ্লেষণে আমার শিল্প দাঁড়ালো সমালোচনার সিঁড়িতে
ধাপগুলো পাল্টাতে গিয়ে হোঁচট খেলো ত্যাগ, সারা জীবনের অধ্যাবসায়,
নিজের থেকে বেশি কবিতা প্রীতি
ধাক্কা খেলো বোঝার অনুভূতি,
প্রশংসার মানুষগুলো মুখরিত হল সমালোচনার ঝরে
আমি মাথা নিচু করলাম
বুঝলাম মৃত্যু হয়েছে আমার
এখন প্রাণ আছে, শ্বাস আছে, প্রশ্বাস আছে
তবুও নিজেকে খুঁজে পাচ্ছি না ভালোবাসাময় বুকে।