ওই যে মেয়েটা !
খড়কুটো হাতে নিয়ে
কৃষ্ণগহ্বরে ডুবতে ডুবতে
'দাদা আমি বাঁচতে চাই'
বলে ডুকরে উঠেছিলো !
নারী দিবস সেদিন,
আবির রাঙা আকাশের মতোই
লজ্জায় লাল হয়ে উঠেছিল।
যে মেয়েটা কানাগলির পিচ্ছিল বাঁকে
সাবধানী পা ফেলে ফেলে
আলোর পথে হাঁটতে হাঁটতে
সেলাই দিদিমণি হয়ে গেছিলো,
নারী দিবস তাকে অভিবাদন জানায় !
যে কালো আইবুড়ো মেয়েটা
গায়ে প্রজাপতি উড়ে এসে বসলেও
বসন্তের দুয়ার রুদ্ধ করে দেয়,
নারী দিবস লজ্জা পায় তার জন্য !
ঠাকুর বাড়ির অলিন্দে,
যে মেয়েটির দীর্ঘশ্বাস
আজও কান পাতলে শোনা যায়,
যার গোলাপ কুসুম সম্ভাবনার কুঁড়িগুলো
পাঁপড়ি মেলার আগেই,
প্রভাব প্রতিপত্তির ইমারতে সমাধিস্থ হয়েছিলো,
নারী দিবস ওই গোধূলির সূর্যের মতোই
বিধূর লালিমায় ফিসফিসিয়ে বলে,
হে অনাগত সময় !
আমায় শক্তি দাও, ধৈর্য্য দাও।
ওই যে পাগলিনী !
বুড়ো নিম গাছটার গায়ে,
চাপ বেঁধে থাকা অন্ধকারে গা মিশিয়ে
খড়ি ওঠা স্তনে,
জারজ পুত্রীর ঠোঁট গুঁজে দেয়,
অগৌরবের মাতৃত্ব বহায় পীযূষ ধারা!
নারী দিবস হাতে নাও অগ্নিশলাকা।
স্বাধীনতা দেওয়ার নয়, নেওয়ার !